শিক্ষার্থীদের প্যান্টের চেইন খুলে দেখালেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক

সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীর স্বজনরা। তাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের নিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে অভিযোগ দিতে যান তারা। অভিযোগ পেয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দূরের কথা উল্টো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও নিজের প্যান্টের চেইন খুলে শিক্ষার্থী ও রোগীর স্বজনদের দেখান তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার রায়।

গত সোমবার (১২ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার রায়ের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এসময় হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদুল ইসলামসহ নার্স, শিক্ষার্থী ও স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনার আগে ওই তত্ত্বাবধায়ক রোগীর স্বজন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীকে গলা কেটে হাসপাতালে ফেলে রাখা হবে, এমন মন্তব্যও করেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। ভিডিও করতে গেলে একপর্যায়ে প্যান্টের চেইন খুলে দেখান তত্বাবধয়ক। এ ন্যক্কারজনক ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠে।

জানা যায়, জেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এ হাসপাতালে সেবার মান উন্নয়ন তো দূরের কথা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে রোগীদের সেবা না দেওয়া, গাফিলতি করা, ডিউটি ফাঁকি দিয়ে অন্যত্র প্র্যাকটিস করার অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এমনকি, জরুরি বিভাগের কয়েকজন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ‘গ্রীভিয়াস সার্টিফিকেট’ বা গুরুতর জখমী সনদ প্রদানেরও অভিযোগ রয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলার বিচার বিভাগের নির্দেশনা উপেক্ষা করে হাসপাতালের একটি চিকিৎসক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে টাকা নিয়ে গ্রীভিয়াস সার্টিফিকেট প্রদান করায় মারামারি বা সংঘর্ষের মামলার সংখ্যাও বেড়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি স্বাস্থ্য বিভাগের।

এ বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ‘গত দু’দিন হাসপাতালে চিকিৎসার বেহাল দশা ও রোগীদের দুর্ভোগের কথা তত্ত্বাবধায়ককে জানালে ব্যবস্থা না নিয়ে গালমন্দ ও প্যান্টের চেইন খুলে দেখান।’

এ বিষয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি একবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। স্যার হঠাৎ করে এমন উত্তেজিত হবে আমরাও বুঝতে পারিনি।’

উপ-তত্ত্বাবধায়ক ও সহকারী পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গতকালও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে এসে সেবার মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে স্যারের সঙ্গে কথা বলায় তিনি আগে থেকেই বিব্রত ছিলেন। ওইদিন আবারও শিক্ষার্থীরা আসায় তিনি তেলেবেগেুনে জ্বলে উঠেন। এরপর তিনি আমাদের সামনেই প্যান্টের চেইন খুলে দেখান। আমরাও বিষয়টি দেখে বিব্রত হয়েছি।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার রায় বলেন, ‘চিকিৎসকরা গত ১২/১৩ বছর ধরেই দুপুর ১২টা একটার পর থেকে সাধারণত হাসপাতালে থাকেন না। গতকালও এসে শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টার পর কয়েকজনকে না পেয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। চিকিৎসকদের কান ধরে উঠবস করাতে চায় শিক্ষার্থীরা। আমি হিন্দু, মনে হয়েছে আওয়ামী লীগ করি, যে কারণে তারা বার বার আমার প্রতি চড়াও হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আনোয়ারুল ইসলামও বিষয়টি জেনেছেন। আমাকে তারা কয়েকদিন হাসপাতালে যেতে বারণ করেছেন।’

এ বিষয়ে জানতে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের মোবাইল ফোন একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. রামপদ জানান, বিষয়টি একেবারে অনাকাঙ্ক্ষিত।’

রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক ডা. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’