আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর

অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এজন্য বয়সের শর্তও শিথিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশের পরিবর্তন ও আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর তাকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।

এ ছাড়া পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এম মাসরুর রিয়াজকে। গতকাল বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। চার বছরের জন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

যদিও মাসরুর রিয়াজকে এসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে স্বাগত না জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অফিসার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল রাতে সংগঠনটি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সালমান এফ রহমান ও এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিগত সরকারের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। তাই বিদায়ী সরকার এবং সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে কমিশনে যোগদানকে কমিশনের কর্মচারীরা স্বাগত জানাবেন না।

মাসরুর রিয়াজের মতো বিতর্কিত ব্যক্তির জন্য কমিশনের কর্মপরিবেশ অনুকূলে হবে না বিধায় ইতিমধ্যে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানিয়েছে তারা।

আহসান এইচ মনসুর বর্তমানে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক। আগে তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশের আর্থিক খাতের একজন বিশ্লেষক হিসেবে সুপরিচিত। আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ সংশোধন করছে সরকার। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৬৭ বছর বয়সী কোনো ব্যক্তি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে থাকতে পারবেন। কিন্তু আহসান এইচ মনসুরের বয়স এখন ৭২ বছর ৮ মাস। সে কারণে আইন সংশোধন করা হচ্ছে।

বয়সসংক্রান্ত শর্ত শিথিলের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন পাওয়ার পর তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর কথা। রাষ্ট্রপতি এই প্রস্তাব অনুমোদন করলে অধ্যাদেশ আকারে তা জারি করা হবে।

এর আগেও গভর্নর নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ সংশোধন করা হয়েছিল। সাবেক গভর্নর ফজলে কবিরকে পুনর্নিয়োগ দিতে সংশোধন করা হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, যা ছিল দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। আদেশ সংশোধনের পর গভর্নর হিসেবে ২০২০ সালের জুলাই মাসে তাকে দুই বছরের জন্য পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান পদত্যাগ করলে পরদিনই সাবেক অর্থসচিব ফজলে কবিরকে চার বছরের জন্য গভর্নর নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। তিনি দায়িত্ব নেন ২০ মার্চ। সে হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ১৯ মার্চ।

কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩৪ দিন আগে ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি গভর্নর হিসেবে ফজলে কবিরের মেয়াদ ৩ মাস ১৩ দিনের জন্য বাড়িয়ে দেয় সরকার। তখন বলা হয়, আইন অনুযায়ী ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি গভর্নর থাকবেন। ফজলে কবিরের ৬৫ বছর পূর্ণ হয় ২০২০ সালের ৩ জুলাই। কিন্তু তাকে পুনরায় নিয়োগ দিতে আদেশ সংশোধন করে গভর্নর নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়স ৬৭ করা হয়।

এদিকে এসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে উন্নয়ন অর্থনীতিতে তিনি পিএইচডি করেছেন। পরে এমবিএ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্স ইউনিভার্সিটি থেকে।

এর আগে এসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম ১১ আগস্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খানের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। গত সোমবার তা গ্রহণ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। শিবলী রুবাইয়াত গত ২৮ এপ্রিল দ্বিতীয় মেয়াদে এসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে চার বছরের জন্য পুনর্নিয়োগ পেয়েছিলেন। ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকে তিনি আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। ইমেইলে পদত্যাগ করেন তিনি।