সালমান এফ রহমানের এলাকার সব মেম্বার-চেয়ারম্যান উধাও 

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরসহ সব জনপ্রতিনিধি আত্মগোপনে রয়েছেন। এর ফলে জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় এই অঞ্চলের উন্নয়নমূলক কাজ, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যু সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবাদানও বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, ২২টি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি পৌরসভার কোনো জনপ্রতিনিধিই এলাকায় নেই। এতে করে জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা নেই তাদের বিনাভোটে চেয়ারম্যান বানিয়েছেন সালমান এফ রহমান। তাই তারা এখন পালিয়েছেন।

জানা যায়, ঢাকা-১ আসনের (দোহার ও নবাবগঞ্জ) সংসদ সদস্য ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তার সংসদীয় এলাকা নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১৪ জন ইউপি চেয়ারম্যান রয়েছে। অপরদিকে দোহার উপজেলায় রয়েছে আরও ৮ জন ইউপি চেয়ারম্যান। এছাড়াও দোহারে ১টি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা রয়েছে। পৌরসভা মেয়রসহ ১২ জন কাউন্সিলর রয়েছে। এরা সবাই সালমান এফ রহমানের সহযোগিতায় বিনা ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সবাই আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান সোহেল বলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৭ জনপ্রতিনিধির কেউই অফিস করছেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা যে নির্দেশ দেবেন সে মোতাবেক কাজ করবো।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে মাঠ পর্যায়ের তথ্য চেয়েছেন। তারা আরও নির্দেশ দিয়েছেন যে, নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কাজ চলমান রাখতে প্যানেল চেয়ারম্যান ও প্যানেল মেয়রের অথবা প্রশাসক নিয়োগ দেবে সরকার।