গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ফিলিস্তিনিরা ক্রমাগত ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। ভারী কামান এবং বারবার উচ্ছেদের আদেশে তারা নিয়মিত আক্রমণের সম্মুখীন হচ্ছেন।
খান ইউনিসের সর্বশেষ উচ্ছেদ আদেশের সঙ্গে নজরদারি, ড্রোন আক্রমণ এবং ভারি কামানের গোলার আক্রমণ তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। মানবিক অঞ্চল হিসেবে যেখানে তাদের যেতে বলা হচ্ছে তা মোটেও নিরাপদ নয়। অতীতে এই অঞ্চলগুলোকে বারবার আক্রমণ হয়েছে। সেখানকার মানুষ মনে করে, এই যুদ্ধের কোনো শেষ নেই এবং তাদের কষ্টের কোনো শেষ নেই।
এদিকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া ৯২ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৪০ হাজার ৫ জন নিহত হয়েছেন। এটি হাজার ২৩ লাখ মিলিয়ন জনসংখ্যার প্রায় ১.৭ শতাংশের সমান। প্রাণহানির পাশাপাশি, স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যুদ্ধের শুরু থেকে গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরায়েলি হামলায় গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় হাসপাতালে আনা হয়েছে এমন নিহত ফিলিস্তিনির মোট সংখ্যা ৪০ হাজার পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার শিশু এবং ৯ হাজার নারী রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছে ২০ হাজারের বেশি নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ৯২ হাজার ৪০১ ফিলিস্তিনি। তাদের মধ্যে প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অনেক ফিলিস্তিনি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ইসরায়েলের অবিরত বিমান ও স্থল হামলার কারণে অনেক জায়গায় অ্যাম্বুলেন্সগুলো পৌঁছাতে না পারায় এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহ রয়েছে বলেও জানায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তেল আবিবে ইতিহাসের স্মরণকালের ভয়াবহ হামলা চালায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। হামলায় ১২০০ জন নিহত হয় এবং ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস। এরপরই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে। এ হামলায় গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।