পড়ার গতি বাড়ানোর কৌশল

যে পাঠকের পড়ার গতি বেশি স্বভাবতই তিনি কিছু সুবিধা উপভোগ করেন। সাধারণ পাঠকের থেকে তিনি বেশি বই পড়তে পারেন, বেশি জ্ঞান অর্জন করতে পারেন, বেশি উপভোগ করতে পারেন সাহিত্য। আবার পৃথিবীতে পড়ার অনেক বই থাকলেও সময় সেই তুলনায় খুবই অল্প। তাই পড়ার গতি বৃদ্ধির বিকল্প নেই। পড়ার গতি বাড়ানোর কিছু কৌশল নিয়ে লিখেছেন শ্রাবন্তী বড়ুয়া

দ্রুত চোখ বুলিয়ে নেওয়া

কোনো বই পড়া শুরুর আগে যদি একটু শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঝটিকা চোখ বুলিয়ে নাও তাহলে বইটির বিষয়বস্তু, ধারা, গঠন ইত্যাদি সম্পর্কে একটা ধারণা পাবেন। ফলে এক ধরনের মানসিক প্রস্তুতি তৈরি হবে। এরপর যখন বইটি পড়বে তখন দ্রুত পড়তে পারবে। একনজরে বইটি চোখ বোলানোর সময় বিভিন্ন শিরোনাম, উপশিরোনামগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে।

ব্যবহার করো নির্দেশক

পড়ার সময় প্রায়ই আমাদের মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটে। ফলে আমরা প্রথম লাইনে ফিরে যাই। আবার কখনো কখনো এক লাইন থেকে আরেক লাইনে চলে যাওয়ায় বাক্যের অর্থ পরিষ্কার হয় না। তখন আবার পড়তে হয়। এতে সময়ের অপচয় হয়। এই সময়ের অপচয় রোধ করতে নির্দেশক ব্যবহার করা যেতে পারে। নির্দেশক হিসেবে অনেকেই আঙুল, কলম বা হাতের কাছে পাওয়া যেকোনো জিনিস ব্যবহার করে। এখন অনেক বইয়ের দোকানেই রঙবেরঙের ও বিভিন্ন বাণীসংবলিত নির্দেশক পাওয়া যায়, স্বল্পমূল্যে। চাইলে সেগুলোও ব্যবহার করতে পারো।

লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে পড়তে বসো

শুধু পড়ার জন্য পড়তে না বসে একটা লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে পড়তে বসো। তাহলে পড়ায় মনোযোগ বসাতে যেমন সুবিধে হবে তেমনি পড়ার মাঝে মনোযোগ অন্যদিকে চলেও যাবে না।

শব্দ করে পড়া নয়

আমাদের মধ্যে অনেকেই শব্দ করে পড়ে। এতে সময় নষ্ট হয়। দ্রুত পড়া যায় না। অনেকে নিজেরাও জানে না যে তারা শব্দ করে পড়েন বা পড়ার সময় ঠোঁট নাড়ান। তুমিও পড়ার সময় ঠোঁট নাড়াও কিনা তা জানতে পড়ার সময় ঠোঁটের ওপর একটা আঙুল রাখতে পারো। যদি আঙুল ঠোঁটের ওপর রেখে পড়তে অসুবিধা অনুভব করো তাহলে বুঝবে তুমিও পড়ার সময় ঠোঁট নাড়ো। এই অভ্যাস পরিবর্তনে মনে মনে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। প্রথম কয়েকদিন ঠোঁটের ওপর হাত রেখে পড়লেই তারপর মনে মনে পড়ার অভ্যাস রপ্ত হয়ে যাবে।

একটি নয় একগুচ্ছ শব্দ একসঙ্গে পড়ো

ছোটবেলায় সবাই বানান করেই পড়েছে। কিন্তু পরে শব্দের একটি চিত্র বানসপটে খোদিত হয়ে যায়। ফলে ওই শব্দটিকে বানান করে পড়ার প্রয়োজন হয় না। যাদের পাঠাভ্যাস দীর্ঘদিনের তাদের ক্ষেত্রে এটি ঘটে। কিন্তু অনেকেই বড় হওয়ার পরও শব্দ বানান করেই পড়েন। এতে পড়ার সময় বেশি লাগে। এই অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। তা ছাড়া অনেকেই একবারে একটি শব্দ পড়েন। এর পরিবর্তে যদি কয়েকটি শব্দের গুচ্ছ একবারে পড়ার অভ্যাস রপ্ত করতে পারেন তাহলে পড়ার গতি দ্রুত হবে। অভ্যাসে মস্তিষ্কও একসঙ্গে অনেকগুলো শব্দের তথ্য গ্রহণের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হবে। তখন বাক্যের অর্থ বুঝতেও কোনো সমস্যা হবে না।

স্মার্টফোন দূরে রাখো

পড়ার সময় মনোযোগ নষ্ট করতে পারে এমন জিনিসগুলো দূরে রাখো, বিশেষ করে স্মার্টফোন। হাতের কাছে স্মার্টফোন থাকলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নোটিফিকেশন চেক করতে ইচ্ছে করবে। আর একবার যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢুকে যাও তাহলে নিশ্চিত থাকতে পারো বেশ কয়েক মিনিট চলে যাবে তোমার। তাই পড়ার সময় স্মার্টফোন হাতের বাইরে রাখো। তা ছাড়া পড়ার সময় খাবার, ল্যাপটপ, ইনডোর ব্যায়ামের সরঞ্জাম ইত্যাদি দূরে রাখো।

পাঠাভ্যাস ধরে রাখো

দ্রুত পড়ার অভ্যাস ধরে রাখতে হলে অবশ্যই পাঠাভ্যাস ধরে রাখতে হবে। পড়ার অভ্যাসে ঢিল দিলে দ্রুত পড়ার দক্ষতাও হ্রাস পেতে থাকে। তাই নিয়মিত অনুশীলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করো

যাদের শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ তাদের পড়ার গতিও ভালো থাকে। তুমি যদি কোনো বিষয় পড়ার মধ্যে বারবার অভিধান খুলে অর্থ দেখতে হয় তাহলে পড়ার গতি এমনিতেই যাবে কমে। তাই শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার বিকল্প নেই। আর শব্দভাণ্ডার বাড়ে বেশি বেশি বই পড়ার মাধ্যমে, বিচিত্র বিষয়ে বই পড়ার মাধ্যমে। নতুন শেখা শব্দগুলো কথোপকথনে ব্যবহার করলে সেগুলো আয়ত্তে চলে আসে।

প্রস্তুতি নিয়ে পড়তে বসো

পড়তে বসার আগে যদি প্রস্তুতি নিয়ে পড়তে বসো তাহলে বারবার উঠতে হবে না। এতে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হবে। সময় নষ্ট কম হবে। পড়ার গতি দ্রুত হবে। প্রস্তুতি বলতে, হাতের কাছে পানির বোতল, ঘড়ি, অভিধান, নোট নেওয়া খাতা, কলম, হাইলাইট করার জন্য মার্কার ইত্যাদি নিয়ে পড়তে বসো।

বিরতি নাও

ক্লান্ত হয়ে গেলে পড়ার গতি কমে যায়। তাই বেশ কিছুক্ষণ পড়ার পরে বিরতি নেওয়া দরকার। কিন্তু এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে অল্পসময়ে বিরতি যেন লম্বা বিরতিতে পরিণত না হয়। সবচেয়ে ভালো হয় যদি পড়তে বসার আগেই ঠিক করে নিতে পারো কতক্ষণ পড়ার পরে কতক্ষণ বিরতি নেবে। একবার নির্ধারণ করে নিয়ে সেটা যথাযথভাবে মেনে চলার চেষ্টা করো।