চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় তিন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচি পালন করছে উপজেলা বিএনপি। এতে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মনে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। মূলত ২০২০ সালে উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকেই প্রকাশ্যে এসেছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। এতে শুরু হয় গ্রুপিং। দীর্ঘ চার বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি আহ্বায়ক কমিটি।
অভিযোগ রয়েছে, আহ্বায়ক কমিটিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী বিএনপি নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। যার কারণে বর্তমানে লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপি তিন গ্রুপে বিভক্ত এবং একে অপরকে ছাড় দিতে নারাজ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপি’র তিনটি গ্রুপ হলো আসহাব উদ্দিন-সাজ্জাদুর রহমান গ্রুপ, নাজমুল মোস্তফা আমিন গ্রুপ ও ছলিম উদ্দিন চৌধুরী খোকন গ্রুপ। প্রতিটি গ্রুপ আলাদা করে আওয়ামী সরকারের পতনের পর আনন্দ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।
এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী সরকারের দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে বিএনপির প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছি। দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলাম। মূলত আহ্বায়ক কমিটি গঠনে জেলা কমিটির মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। জেলা কমিটির অপারগতার কারণে লোহাগাড়া বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারিনি।
লোহাগাড়া বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব সাজ্জাদুর রহমান বলেন, আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সময় দক্ষিণ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তিন গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিগত সরকারের সময় আমি ও আমার নেতা-কর্মীরা গায়েবী মামলাসহ জেল খেটেছে। তবে বিভক্ত বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করতে দক্ষিণ জেলা বিএনপি যে নির্দেশনা দেবেন তা মেনে নেবো।
ক্ষোভ প্রকাশ করে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ছলিম উদ্দিন চৌধুরী খোকন দেশ রূপান্তরকে জানান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে নব্বইয়ের দশক থেকে যারা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তাদের কাউকে রাখা হয়নি। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো মতামত নেওয়া হয়নি।