বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধির বিশেষ আইনের অধীনে সব প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণ, বাছাই, নেগোশিয়েশন ও ক্রয় প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ ঘোষণা করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। গতকাল রবিবার বিকেলে মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউল্লাহ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২১)-এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে নানা সমালোচনার মুখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
গত ১৫ আগস্ট দৈনিক দেশ রূপান্তরে ‘বিশেষ আইনে বিপুল নয়ছয়’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে আরও কয়েকটি গণমাধ্যম এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিশেষ আইন নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। দ্রুত এ আইন বাতিলের দাবি ওঠে। সংবাদমাধ্যমে এমন একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি তৎকালীন সরকার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উত্থাপিত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ বিশেষত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২১)-এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিরূপ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং এর ফলে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে বা হতে পারে।
এতে আরও বলা হয়, এ অবস্থায় এ আইনের অধীনে চলমান সব নেগোশিয়েশন, প্রকল্প বাছাই-প্রক্রিয়াকরণ এবং ক্রয় প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকবে। তবে এ আইনের অধীনে ইতিমধ্যে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় নেওয়া সব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে অবহিত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ-সংকট মোকাবিলায় ২০১০ সালে দুই বছরের জন্য বিশেষ আইনটি করেছিল শেখ হাসিনার সরকার। এ আইনের আওতায় প্রতিযোগিতা ছাড়াই বিদ্যুৎ, জ্বালানি কেনা ও অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ রাখা হয়। এর বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি দায়মুক্তি আইন হিসেবেও পরিচিত। তিন দফা মেয়াদ বৃদ্ধি ও সংশোধনের পর ২০২৬ সাল পর্যন্ত এর কার্যকারিতা রয়েছে।
২০১০ সালে আইনটি পাসের সময়ই সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে যখনই এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, তখনই আপত্তি উঠেছে। তারপরও এ আইন বাতিল হয়নি।
নির্বাহী আদেশে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ হবে না : এখন থেকে সরকারের নির্বাহী আদেশে আর গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হবে না। পরিস্থিতি জটিল না হলে দামও বাড়ানো হবে না। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) মাধ্যমে শুনানি করে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে গতকাল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর গতকাল প্রথম অফিস শুরু করেন। তিনি একই সঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বেও রয়েছেন।
দুপুর ২টার দিকে সচিবালয়ে গিয়ে প্রথমে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হাবিবুর রহমান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব নুরুল আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বারবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে। তাই এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না, যা দুর্ভোগ আরও বাড়াবে। আমরা চাই দাম সহনীয় রাখতে। বাধ্য না হলে বিদ্যুৎ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করব না। প্রয়োজন হলে কমিশন সবার সঙ্গে কথা বলে নীতিমালা অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেবে।’