ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা ইনু মেননের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মিরপুরে দেশ পলিটেকনিক কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার হাসান আলভীকে (১৫) গুলি করে হত্যার ঘটনায় ২৭ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী, ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাকর্মী এবং পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। গতকাল সোমবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত সংস্থায় অভিযোগটি দাখিল করা হয়।

এদিকে গণআন্দোলনে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নতুন করে আরও পাঁচটি মামলা হয়েছে। গত রবিবার রাত থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত আদালত ও থানায় এসব মামলার অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে তিনটি মামলা হয় ঢাকার আদালতে। বাকি দুটি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে।

ঢাকার মামলা তিনটির মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুরে লিটন হাসান নামে এক স্কুলছাত্র নিহতের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১৪৮ জনের বিরুদ্ধে এবং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ কবিরকে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৬৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় মো. তারিক নামে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদনের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআইকে) তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। আর চট্টগ্রামে কলেজছাত্র ওয়াসিম আকরাম নিহতের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ২৫০ জনকে আসামি করে এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলিতে মিলন মিয়া নামে এক মাছ ব্যবসায়ী নিহতের ঘটনায় স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে জুলাই মাসের প্রথমে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলতি মাসের শুরুতে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের এক দফা আন্দোলনে পরিণত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্বিচার গুলি ও সহিংসতায় শিক্ষার্থীসহ কয়েকশ মানুষ নিহত হন। একপর্যায়ে প্রবল গণআন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ওইদিন তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এরপর গত কয়েক দিন ধরে গণহত্যা ও হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনা, তার সরকারের সময়ের মন্ত্রী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতনদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত এ নিয়ে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে তাদের বিরুদ্ধে ১৮টি হত্যা মামলা হলো। এ ছাড়া অপহরণের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন এক আইনজীবী।

এর বাইরে হত্যার অভিযোগে গত সপ্তাহে শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় দুটি অভিযোগ জমা পড়ে।

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলি-সহিংসতা এবং এর আগের কয়েক বছরের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় হত্যাসহ নতুন করে ১৫টি মামলা হয়েছে। যাতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, দলটির সাবেক সংসদ সদ্যস্য (এমপি) এবং পুলিশ সদস্যসহ ১ হাজার ৭০০ জনকে জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও অনেককে।

স্কুলছাত্র লিটন হাসান হত্যা মামলা : গত ৪ আগস্ট দুপুরে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে নবম শ্রেণির ছাত্র লিটন হাসানকে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ১৪৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহতের বড় ভাই মো. মিলন। গতকাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান অভিযোগটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করতে মিরপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। এ মামলায় উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, কামাল আহমেদ মজুমদার ও ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান। বাদী অভিযোগ করেন আসামিদের নির্দেশে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানো হয়।

ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ কবির হত্যা মামলা : মিরপুরের ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আবদুল্লাহ কবিরকে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৬৭ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন নিহতের স্ত্রী আফসানা আক্তার। মামলার আরজিতে বলা হয়, ৪ আগস্ট দুপুরে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করছিলেন আবদুল্লাহ কবির। আসামি শেখ হাসিনার নির্দেশে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এ সময় আবদুল্লাহ কবিরের বুকে গুলি লাগলে তিনি লুটিয়ে পড়েন। উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আরজি গ্রহণ করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান অভিযোগটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করতে মিরপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। মামলাটির উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, কামাল আহমেদ মজুমদার ও হাবিবুর রহমান।

তারিক হত্যায় তদন্তের নির্দেশ : গত ৫ আগস্ট শেরেবাংলা নগর এলাকায় গুলিতে তারিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আবেদন করা হয়েছে। নিহতের মা ফেরদৌসী খাতুন গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারাহ দিবা ছন্দার আদালতে এ আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে বিচারক পিবিআইকে তদন্ত শেষে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন।

আলভী হত্যায় হাসিনা-মেনন-ইনুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ : গত ৪ আগস্ট মিরপুরের দেশ পলিটেকনিক কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার হাসান আলভীকে (১৫) গুলি করে হত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আরাফাত, সাবেক মন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভা-ারি, পুলিমের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক মো. হারুন অর রশিদ, যুবলীগের সেক্রেটারি মাইনুল হোসেন নিখিলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগে আসামির তালিকায় সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল আলভীর বাবা মো. আবুল হাসানের পক্ষে অভিযোগটি দাখিল করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন। আসামিদের নির্দেশে পুলিশের গুলিতে শাহরিয়ার হাসান আলভী নিহত হয় বলে অভিযোগ করা হয়। আলভীর বাবাকে আইনি সহায়তা দেওয়া আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটির সঙ্গে আরও দুই অভিযোগ যুক্ত করে তদন্ত করবে তদন্ত সংস্থা।’

চট্টগ্রামে কলেজছাত্র ওয়াসিম হত্যা মামলা : চট্টগ্রামে গুলিতে কলেজছাত্র ওয়াসিম আকরাম নিহতের ঘটনায় তার মা জোছনা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। রবিবার রাতে পাঁচলাইশ থানায় মামলাটি করা হয়। এতে শেখ হাসিনা, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার উল্লেখযোগ্য অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সদ্য অপসারিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ও সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চু।

নারায়ণগঞ্জে মাছ ব্যবসায়ী মিলন হত্যা মামলা : শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের ও স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মাছ ব্যবসায়ী মিলন মিয়ার স্ত্রী শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে গত রবিবার রাতে মামলাটি করেন।

আরও ১৫ মামলায় পুলিশ-আ.লীগ নেতাসহ ১৭০০ আসামি : অপহরণ করে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন হয়েছে। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা আবেদনটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অন্যদিকে সাত বছর আগে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ৩৮৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

দিনাজপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও শিক্ষার্থী হত্যার অভিযোগে সাবেক বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, তার সহোদর সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিমসহ আওয়ামী লীগের ২০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ মামলায় আরও অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী ও নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এএইচএম ইব্রাহীমসহ ছাত্রলীগ, যুবলীগের ৩৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে।

জেলার সেনবাগ থানার সাবেক ওসি মিজানুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের ১৭ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর-লুটপাট, অপহরণ ও আটক নেতাদের থেকে হুমকি দিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে এ মামলা করা হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্র রুদ্র সেন ও সাংবাদিক এটিএম তুরাব নিহতের ঘটনায় গতকাল সিলেটে দুটি মামলা হয়েছে। আদালতে করা মামলা দুটিতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, শাবিপ্রবির সাবেক ভিসি, আওয়ামী লীগের সাবেক তিনজন এমপি, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র, পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের ৯৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিজয় মিছিলে হামলা, মারধর, ককটেল বিস্ফোরণ ও একটি রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগে গত ১৬ ও ১৭ আগস্ট পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলা দুটিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ছোট ভাই অধ্যক্ষ আবদুল হক নূরু, বোন আছিয়া আলম, ভাতিজা হানিফ কামাল, শরীফ কামাল ও তারেক কামালসহ পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গুলিতে নিহত শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন ও দিনমজুর বাবুর স্বজনরা দাউদকান্দি মডেল থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা করেছেন। এতে ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০০ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

গুলিতে স্কুল শিক্ষার্থী মো. মারুফ মিয়া নিহতের ঘটনায় সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুসহ টাঙ্গাইলের সাবেক ছয় সংসদ সদস্যের নামে হত্যা মামলা করেছেন নিহতের মা মোছা. মোরশেদা। মামলায় ৫৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সাভারে গুলিবিদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন (২৯) নিহতের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। এতে সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানকে প্রধান করে ৩২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া আশুলিয়ায় আস-সাবুর (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় আরও একটি মামলা হয়েছে। এতে মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগের ৪০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সাবেক এমপি আ ক ম বাহারউদ্দিন বাহার ও তার মেয়ে কুসিক মেয়র তাহসীন বাহার সূচনাসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান ও আওয়ামী লীগের ৫০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ২০২৩ সালে নেতাকর্মীদের মারধর এবং বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এ মামলাটি করা হয়।

নীলফামারীতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুট-অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ৪১ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ব্যুরো এবং সংশ্লিষ্ট জেলার প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যে প্রতিবেদনটি তৈরি