বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকার শনির আখড়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় কিশোরগঞ্জের ভৈরবের জুবায়ের আহমেদ (১৬)। ছেলে হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছেন তার মা হোসনে আরা বেগম।
তিনি চান তার বুকের ধনকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, দ্রুত তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক। অক্ষম স্বামীর অভাবের সংসারে অল্প বয়সে হালধরা ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা তিনি।
অন্যদিকে ভৈরব শহরের পাওয়ার হাউজ মোড়কে ‘শহীদ জুবায়ের চত্বর’ নামকরণের দাবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের।
জানা যায়, ভৈরবের আগানগর ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামের বাসিন্দা হোসনে আরা বেগম। তার বিয়ে হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার সুলতানপুর এলাকায়। স্বামী ভিটেমাটিহীন হওয়ায় তিনি থাকেন বাবার বাড়িতে। তার দুই ছেলে জুবায়ের ও জুনায়েদ। স্বামী প্রায়ই অসুস্থ থাকেন, তেমন কোনো কাজ করতে পারেন না। তাই দুই ছেলেকে নিয়ে চরম অভাবে কাটছিল হোসনে আরার জীবন।
জুবায়ের পড়াশোনায় বেশ ভালো। কিন্তু ক্লাস সেভেনের গ-ি পার হওয়ার পরই রোজগারের আশায় কাঠমিস্ত্রির কাজ শেখে। ৬ মাস আগে মা-বাবা ও ছোট ভাইকে নিয়ে ঢাকার শনির আখড়ায় চলে যায়। সেখানে একটি ফার্নিচারের কারখানায় ১২ হাজার টাকা মাসিক বেতনে কাজ শুরু করে।
ঢাকায় কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে, জুবায়ের ছাত্রদের সঙ্গে যোগ দিতে থাকে। মা সেটি জেনে তাকে নিষেধ করেন। কিন্তু মায়ের নিষেধ সত্ত্বেও গত ৪ আগস্ট সে আন্দোলনে শরিক হয়। দুপুর বা বিকেলে পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়।
দুপুরে কাজ থেকে বাসায় ফিরে খেতে আসার কথা থাকলেও সে আসেনি। এতে দুশ্চিন্তা বাসা বাঁধে মায়ের মনে। তিনি অস্থির চিত্তে ছেলের খোঁজ করতে থাকেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাননি। পরের দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছেলের লাশ খুঁজে পান।
সন্তানহারা মা হোসনে আরা জানান, অভাবের সংসারে আলোর দিশা হয়ে তার পাশে দাঁড়ানো ছেলেকে হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা। তার দেহের একপাশ যেন অবশ হয়ে গেছে। তিনি ঘুরে দাঁড়াবার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। কী করবেন এখন তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না। জুবায়েরের নানা বাচ্চু মিয়া ও প্রতিবেশী আক্কাছ আলী দাবি করেন, সহায়তা নিয়ে পরিবারটির পাশে যেন দাঁড়ায় সরকার।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, ভৈরব শহরের রেলওয়ের পাওয়ার হাউজ সংলগ্ন রাস্তার মোড়টিকে ‘শহীদ জুবায়ের আহমেদ চত্বর’ নামকরণ করা হোক। তারা তাদের দাবির পক্ষে গত ১০ আগস্ট ওই মোড়ে মানববন্ধন করেন।