সাবেক মেয়র লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে সাড়ে ৫ বছর পর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) নগরীর চন্দ্রিমা থানায় মামলাটি করা হয়েছে। এতে আরও ৪০-৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আওরঙ্গঁজীব মো. আব্দুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

বুধবার (২১ আগস্ট) বিকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনী ঘটনায় গতকাল বিকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক এসে মামলা দায়ের করেছেন। তারা মামলাটি গ্রহণ করেছেন। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মামলার এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিরা হলেন, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, রবিউল ইসলাম রুবেল, আকাশ, মো. সোহাগ, মো. শফিক, মো. আক্তার আহম্মেদ বাচ্চু প্রমুখ। তারা বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ও বাকিরা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী।  

মামলার এজাহারে ঘটনার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন বাদী শিক্ষকসহ স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত মিজানুর রহমান মিনুর সমর্থনে পদ্মা আবাসিক পোস্ট অফিসের সামনে নির্বাচনী ক্যাম্পে কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। ওইদিন বেলা ১১ টায় তাদের ওপর হামলা করেন আসামিরা। সদ্য সাবেক সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন ও ডাবলু সরকারের নির্দেশে রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে আসামীরাসহ অজ্ঞাতনামারা দলবদ্ধ হয়ে লোহার রড, হকিস্টিক, ক্রিকেট স্ট্যাম্প, বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের নির্বাচনী প্রচার ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা করে ভাঙচুর করেন। এতে আনুমানিক চল্লিশ হাজার টাকার ক্ষতি হয় এবং ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হত্যার উদ্দেশ্যে করা ওই হামলায় বাদী শিক্ষকসহ অনেকের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম হয়।

মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যাপক আওরঙ্গঁজীব মো. আব্দুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালে যখন আমাদের ওপর হামলা হয়, তখন দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা আমাদের মামলা গ্রহণ করেননি। এমনকি নির্বাচনের জন্য যে সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্স ছিল, তাদের মোবাইলে ফোন করেও কোনো সাড়া মেলেনি। তাই আওয়ামী সরকারের পতন হবার পর মামলাটি দায়ের করেছি। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে বিধি-মোতাবেক ন্যায় বিচারের দাবি জানান তিনি।