মীরসরাইয়ের চার ইউনিয়ন প্লাবিত

চট্রগ্রামের মীরসরাইয়ের চারটি উপজেলা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে আটকা পড়েছে অন্তত ৮০ হাজার মানুষ। আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন স্বেচ্ছসেবী সংগঠন। দুর্ঘটনার আশংকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কিছু এলাকায়।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকাল থেকে মীরসরাইয়ের চারটি ইউনিয়নে বন্যার পানি বাড়তে শুরু করে। প্রবল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে মীরসরাইয়ের করেরহাট, হিঙ্গুলী, ধুম ও ওসমানপুর ইউনিয়নের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। এসব এলাকার অধিকাংশ বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। চারদিক প্লাবিত ও প্রবল  স্রোতের কারণে অনেকে নিরাপদ আশ্রয়েও যেতে পারছেন না। বেশির ভাগ সমস্যায় দেখা দিয়েছে বয়োবৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে। প্লাবিত বেশিরভাগ এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে অনেক জায়গার মোবাইল নেটওয়ার্কও। প্রিয়জনদের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বেগ উৎকন্ঠায় সময় কাটছে অনেকের।

স্থানীয় সাংবাদিক ফিরোজ মাহমুদ জানান, বন্যার পানিতে প্লাবিত এলাকার বেশিরভাগ ঘর-বাড়ি ডুবে গেছে। খাবার ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গৃহপালিত পশু নিয়ে বেশিরভাগ মানুষ বিপাকে পড়েছে। যাতে অন্তত প্রাণটা বাচাঁতে পারে এই আশায় অনেকে পশুদের পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন বলেন, পানিতে তলিয়ে যাওয়া এলাকা থেকে মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে কাজ  করছে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ছাত্র-জনতাসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এ পর্যন্ত ১৭০০ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারে স্পিড বোট নিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ৩০ টার অধিক স্পিড বোট আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে কাজ করছে সেনাবাহিনী। দুর্ঘটনার আশংকায় কিছু জায়গার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখলেও অন্যান্য এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।