প্যারাঅলিম্পিকের নামে কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ বাতিল

বাংলাদেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতে গত ১৫ বছর অনিয়ম-দুর্নীতির মহোৎসব চলেছে। বিদেশি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে খেলোয়াড়ের চেয়ে কর্মকর্তারাই সপরিবারে গেছেন আনন্দ ভ্রমণে। এর সর্বশেষ সংযোজন ছিল প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য প্যারাঅলিম্পিকে ২ ক্রীড়াবিদের সঙ্গে ১৩ জনের বিশাল লটবহর। তবে বিষয়টি নজরে আসতেই পুরনো জিও বাতিল করেছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

আজ শুক্রবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার ব্যক্তিগত প্রেস সেক্রেটারি মাহফুজ আলমের সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘২৮ আগস্ট প্যারিসে শুরু হতে যাওয়া প্যারালিম্পিক গেমসে দল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। দলের সঙ্গে বহর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগ আমলে নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। গত ১৮ জুলাইয়ের জিও বাতিল করে ১৩ জনের স্থলে ৭ জনের জিও মঞ্জুর করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।’

নতুন জিও অনুযায়ী প্যারাঅলিম্পিক গেমসে যাবেন- এনপিসির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. শেখ আব্দুস সালাম, ফখরুদ্দিন হায়দার, মনিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আসিফ সোবহান, নিশিথ দাস, ঝুমা আক্তার এবং আল আমিন হোসেন। এই সাতজনের মধ্যে ঝুমা আক্তার এবং আল আমিন হোসেন হলেন ক্রীড়াবিদ। দুজনেই খেলবেন আর্চারি ইভেন্টে। কোচ হিসেবে যাচ্ছেন নিশীথ দাস ও চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম। বাকি তিনজন কর্মকর্তা।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরসহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, প্যারাঅলিম্পিকের নামে তুঘলকি কাণ্ডের। গত ১৮ জুলাই সাক্ষরিত সরকারি আদেশ অনুযায়ী, আসন্ন প্যারিস প্যারাঅলিম্পিকে বাংলাদেশের দলে প্রতিযোগী মাত্র ২ জন থাকলেও কর্মকর্তা ছিলেন ১৩ জন! এর মধ্যে ফখরুদ্দিন হায়দার ও প্যারালিম্পিক কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ আবদুস সালামের সস্ত্রীক যাওয়ার কথা ছিল। নতুন জিও আদেশে এই দুজনের নাম থাকলেও তারা সস্ত্রীক যাবেন কিনা- সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।