ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় থাকা সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে আটক করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে বলে এক খুদে বার্তায় জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী ডনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বিচারপতি মানিক। এ সময় বিজিবির একটি টহল দল তাকে আটক করে। আটকের পর একটি ভিডিওতে তাকে কয়েকজনকে নানারকম প্রশ্ন করতে দেখা যায়। এ সময় মানিক জানান, দালালের সহায়তায় ১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে চোরাইপথে ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, বাংলাদেশি এবং লন্ডনের দুটি পাসপোর্টসহ অন্যান্য মালামাল তারা (দালাল চক্র) ছিনিয়ে নিয়ে তাকে একা রেখে যান বলে দাবি করেন মানিক। ওই ভিডিওতে তাকে খুব আতঙ্কিত ও বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল।
শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক আপিল বিভাগের বিচারপতি ছিলেন। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি অবসরে যান। এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও টেলিভিশন টকশোতে কথা বলতেন তিনি। টকশোতে তার বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। সর্বশেষ একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে একজন নারী উপস্থাপিকাকে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলার কারণে দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার জন্য একজন আইনজীবী উকিল নোটিস পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমা চান সাবেক এ বিচারপতি। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বিচারপতি মানিকের কোনো খোঁজ মিলছিল না।
আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছে বিজিবি। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে সীমান্তবর্তী বিজিবি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় বিচারপতি মানিককে আসামি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি আবেদন জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধানের জন্য। মানিকের বিরুদ্ধে বাড়িভাড়া, গ্যাস ও পানির বিল বাবদ সরকারের ১৪ লাখ ১৯ হাজার ২০০ টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগে দুদকে এ আবেদন করা হয়।