শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউকে পদত্যাগ করানো যাবে না : শিক্ষা উপদেষ্টা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পদত্যাগের জন্য বলপ্রয়োগ করা যাবে না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। পদত্যাগে বাধ্য করে অস্থিরতা সৃষ্টি করলে ‘প্রশাসন ভেঙে পড়তে পারে’ বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। গতকাল রবিবার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তাদের কারও বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন করে পদায়ন ও নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করে অস্থিরতা সৃষ্টি করলে প্রশাসন ভেঙে পড়তে পারে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পেতে অসুবিধা হবে।’

সরকার পতনের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে পদ ছেড়েছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গত সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসনিক পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জোর করে পদত্যাগের বিষয়টি তীব্র সমালোচনা তৈরি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার এক সপ্তাহ পরও উপাচার্যসহ অন্য কর্মকর্তাদের পদত্যাগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক প্রকার স্থবির হয়ে আছে। এখনো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদত্যাগের দাবি চলছে।

পদত্যাগে বাধ্য করা নিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম-বিধি অনুযায়ী পদায়ন ও বদল করা হয়। তাদের বলপূর্বক পদত্যাগের সুযোগ নেই।’

‘একটি সফল অভ্যুত্থানের পর’ সুশৃঙ্খল সমাজের প্রত্যাশায় ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে তাগিদ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘কাউকে ব্যক্তিগতভাবে অপমানিত করা যাবে না। শিক্ষাঙ্গনে ভদ্রতা বজায় রাখতে হবে।’