তিন দফা বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো

পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক বন্যা পরবর্তী সময়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে। গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো, কৃষি জমি ও কাচা ঘরবাড়ি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতির শিকার পরিবারগুলো বন্যার পানি নেমে যাওয়ার চার দিনেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি।

জেলা সদর ছাড়াও দীঘিনালা, রামগড় ও মহালছড়ি উপজেলায় বন্যায় কবলিত হওয়ার সংখ্যা বেশি। জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সূত্র অনুযায়ী এই দুর্যোগে জেলার প্রায় ৪০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সৃষ্ট ক্ষতচিহ্ন এখন স্পষ্ট। এরই মধ্যে অসংখ্য পরিবারের কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয়েছে। চেঙ্গী, মাইনী ও ফেনী নদীর তীরবর্তী বহু মানুষের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও গবাদিপশু ভেসে গেছে। ফলে পানি সরে যাওয়ার চার থেকে পাঁচ দিন পরও তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণসহ পুনর্বাসনের দাবি স্থানীয়দের।

খাগড়াছড়ির সদরের দক্ষিণগঞ্জ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা রহিমা বেগম, তার স্বামী মারা গেছেন প্রায় দশ থেকে বার বছর আগে। অন্যের ক্ষেত খামারে কাজ করে কোনো মতে চেঙ্গী নদীর পাড়ে এক গন্ডা জায়গা কিনে ঘর করেন তিনি। এবারের বন্যায় সেটিও ভেঙে গেছে। হাঁস-মুরগি যা ছিল সেগুলো ভেসে গেছে। ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ায় মানবেতর জীবন পার করছেন তিনি।

এদিকে বটতলী চাকমা পাড়া কৃষক জ্যোতি রঞ্জন তালুকদার ও চাঁন্দা দেবী চাকমা জানান, বন্যায় তাদের এলাকায় বাড়িঘর ও ফসলের জমি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে অনেকে নিঃশ^ হয়ে গেছে। এছাড়া রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচল অনুপযোগী হয়ে গেছে। তারা আরও জানান, অন্যান্য এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পেলেও এখানে তেমন পায়নি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্রে মতে, জেলায় ১০৭ কিলোমিটার রাস্তা, ১৪টি কালভার্ট ও তিনটি সেতুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি খাতে ২ হাজার ১২৪ হেক্টর ফসলি জমির ফসল ক্ষতির তথ্য দিয়েছে

কৃষি বিভাগ। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক শহিদুজ্জামান জানান, খাগড়াছড়ির বন্যার্তদের সহায়তায় জেলা প্রশাসন থেকে এ পর্যন্ত ৫০২ টন খাদ্যশস্য ও সাড়ে ১২ লাখ টাকা রবাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও সেনাবাহিনী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ত্রাণ সহায়তায় এগিয়ে এসেছে।