তিল তিল করে গড়া দীর্ঘ ৪০ বছরের কষ্টার্জিত মাছ উৎপাদনের খামার নিমিষে শেষ হয়ে গেল। আজকে আমাকে পথে বসতে হবে। আমার আর কিছু রইল না। এই ক্ষত কীভাবে শুকাবে জানি না। ও আমার মালিক এত বড় শাস্তি পেলাম। জীবনে কখনো কল্পনাও করি নি। ও আল্লাহ আমাকে নিলে না কেন।
এসব কথা বলে হাউ মাউ করে কেঁদে ফেললেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা মৎস্য চাষি আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান। তিনি পৌর সদরের দৌলতপুর গ্রামে বিসমিল্লাহ মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার প্রতিষ্ঠিত করেন।
তিনি আর ও বলেন, ‘৪০ বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছেন। তার খামার থেকে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাছ যেত। ছোট মাছ থেকে শুরু করে সকল প্রজাতির মাছ উৎপাদন করা হতে খামার থেকে। এ খামারে অন্তত ১৫-২০ জন শ্রমিক কাজ করে। প্রতিমাসে এই খামার থেকে কোটি টাকার মাছ বিক্রি হত । আকস্মিক বন্যা ৪৭টি পুকুর ডুবে গিয়ে সকল মাছ চলে যায়। আজকে আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। আমার আর কিছু রইল না।’
খামারটির পরিচালক আবুল খায়ের বাবুল বলেন, ‘আমি আমার আব্বার সাথে খামারের সকল কাজে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে আসছি। এ খামারের ছোট বড় পুকুর মিলে ৪৭ টি মৎস্য প্রজেক্ট রয়েছে। কিন্তু এবারের বন্যায় আমাদের সব প্রজেক্টের মাছ জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। এতে করে আমাদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা হবে। প্রজেক্ট গুলো চালাতে গিয়ে আমরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুই কোটি টাকার লোন নিয়েছি। এ অবস্থায় আমরা কিভাবে এ লোনগুলো পরিশোধ করব বুঝতে পারছি না। তাই সরকারের কাছে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার দাবি জানান।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাছ চাষে কুমিল্লার জেলার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নাঙ্গলকোট উপজেলা। এখানে গ্রাতিটি গ্রামে মাছ চাষের পুকুর রয়েছে। এমন কোনো পরিবার নেই যে মাছ চাষের সঙ্গে জড়িত নেই তাদের। পুরো উপজেলায় ৩০০ থেকে ৩৫০ মৎস্য চাষি রয়েছে। আকস্মিক এ বন্যায় পুরো নাঙ্গলকোট ডুবে গিয়ে সকল পুকুরের মাস ভেসে গেছে। এতে অন্তত ১০০ কোটি টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া আক্তার লাকি বলেন, ‘এখানে অনেক মাছ চাষি রয়েছে। বন্যায় সকল পুকুর ভেসে গেছে। মাছ চাষিদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারের পক্ষ হতে যখন তালিকা চাওয়া হবে তখন আমরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ তালিকায় দিব।’