তরুণরা কি ২০০৩ ফেরাতে পারবেন আজ

২০০৩ সালে ঢাকায় হওয়া সিনিয়র সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সঙ্গে মিলিয়ে চাইলে আজ আপনিও আশায় বুক বাঁধতে পারেন। সেবার ভারতকে সেমিফাইনালে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। কাঠমান্ডুতে অনূর্ধ্ব-২০ সাফেও হয়েছে তাই। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে আজকের ফাইনালে।

২১ বছর আগের ফাইনালে বাংলাদেশ খেলেছিল নিয়মিত অধিনায়ক রজনীকান্ত বর্মণকে ছাড়া। আজও বাংলাদেশ খেলবে নিয়মিত অধিনায়ক মেহেদী হাসান শ্রাবণকে বাইরে রেখে। তফাৎ একটাই, রজনী খেলতে পারেননি দুই হলুদ কার্ডের কারণে। আজ শ্রাবণ খেলবেন না সেমিফাইনালে কপালে চোট পাওয়ায়। তবে ঢাকা স্টেডিয়ামের সেই ভাগ্যটা আজ কাঠমান্ডুর আনফা কমপ্লেক্সে বয়ে আনতে পারলেই শিরোপা উঠবে বাংলাদেশের যুবাদের হাতে। ঢাকায় সে রাতের প্রতিপক্ষ মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে হারিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে আজ দুপুরে যুবাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক নেপাল।

মাত্র দুই সপ্তাহের প্রস্তুতি নিয়ে নেপাল গিয়েছিল বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ কোচ মারুফুল হক এই সময়টার পূর্ণ সদ্ব্যবহারে লড়াকু রূপ দিয়েছেন দলটিকে। তবে শুরু থেকে চলার পথে ছিল চড়াই-উৎরাই। গ্রæপ পর্বে শ্রীলঙ্কাকে হারালেও বাংলাদেশ হেরে গিয়েছিল নেপালের কাছে। আজ তাই শিরোপা নিশ্চিত হলে হয়ে যাবে সেই হারের প্রতিশোধও। নেপাল অবশ্য ছেড়ে কথা বলবে না। এই অ্যাকাডেমিতেই বেড়ে ওঠা, ফুটবলের হাতেখড়ি পাওয়া নেপালিরা চাইবে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হতে। বাংলাদেশকে আরেকবার হারিয়ে তারা চাইবে প্রথমবারের মতো বয়সভিত্তিক এই আসরের শিরোপা জিততে।

সিনিয়রদের মতো বয়সভিত্তিক পর্যায়েও বাংলাদেশের সাফল্য নেই অনেকদিন। ২০১৬ সালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ আসরের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকেই আক্ষেপের শুরু। এই বয়স শ্রেণিতে ২০২২ সালে ফাইনালে উঠেও ভারত বাধা পেরুনো যায়নি। এবার একই আক্ষেপ সঙ্গী করতে চাইছে না বাংলাদেশ। দলের অন্যতম অস্ত্র শ্রাবণ শঙ্কামুক্ত হয়ে মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল থেকে হোটেলে ফিরেছে ঠিক, তবে মাঠে ফেরার মতো অবস্থায় নেই। তাতে অবশ্য দুশ্চিন্তাটা বাড়েনি বাংলাদেশের। ভারতের বিপক্ষে দুটি টাইব্রেকার ঠেকিয়ে বদলি মোহাম্মদ আসিফ জোগাচ্ছেন সাহস। এই ম্যাচে অবশ্য আরেকজনকে ভীষণ মিস করবে বাংলাদেশ। সেন্টারব্যাক কামাচাই মারমা সেমিফাইনালে দুই হলুদ কার্ড দেখায় খানিকটা ভাবনা বাড়ছে।

একদিন আগে সেমিফাইনাল খেলায় নেপাল বিশ্রাম ও রিকভারির সময়ও পেয়েছে একদিন বেশি। বাংলাদেশের এই জায়গায় খানিকটা খামতি রয়েছে। তাছাড়া কাঠমান্ডুতে গিয়ে আইসবাথের সুযোগ না মেলায় ভিন্ন পন্থায় শিষ্যদের ম্যাচ ফিট করার চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে মারুফুলকে। তবে মহাফাইনালের আগে কোনো কিছুই অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না এই কোচ।

প্রাক-ফাইনাল সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে মারুফুল দেখিয়েছেন স্বপ্ন, ‘প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি মনে করি আমরা সঠিক পথেই আছি। একটা কঠিন কিছু অর্জনের জন্য যে জার্নিটা থাকে, তাতে অনেক উত্থান-পতন থাকে। আমরা সেই উত্থান-পতন পার হয়ে কাল (আজ) ফাইনাল খেলব। গ্রæপপর্বে যে নেপালের সঙ্গে খেলেছি, ধরে নিই সেখানে তারা ৮০ ভাগ শক্তি নিয়ে খেলেছিল। ফাইনালে তারা শতভাগ শক্তি দিয়ে খেলবে। ট্যাকটিকসেও হয়তো কিছু পরিবর্তন আনবে তারা। ওই ম্যাচটা আমরা হেরেছিলাম। এমন নয় যে ফাইনালে তাদের হারাতে পারব না। আমরাও যদি শতভাগ শক্তি নিয়ে খেলি, গেম প্ল্যানে যদি কিছুটা পরিবর্তন এনে খেলি, তবে অবশ্যই সম্ভব। নেপালের খেলোয়াড়রা এই মাঠে খেলেই বড় হয়েছে। তাদের সব কিছু বিবেচনায় রেখে, আমাদের খেলোয়াড়দের যদি শতভাগ ফিট অবস্থায় মাঠে রাখতে পারি তবে শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরতে পারব।’

আসরের আঁটসাঁট সূচির কারণে বিশ্রামের সময়টা বেশি মিলছে না। তারপরও মারুফুলের বিশ্বাস আজ মাঠে নামার আগে তার শিষ্যরা শতভাগ ম্যাচ ফিট হয়ে উঠবে, ‘এখানে আসার পর থেকে খেলোয়াড়দের রিকভারির সময়টা কম ছিল। আইসবাথের সুযোগ ছিল না। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি পুলে রিকভারি করার জন্য। আশা করছি আগামীকাল (আজ) ম্যাচের আগে সবাই শতভাগ ফিট হয়ে যেতে পারবে।’

শ্রাবণের না থাকাটা ভাবাচ্ছে না মারুফুলকে মূলত ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আসিফের অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণেই, ‘নিয়মিত অধিনায়ক শ্রাবণ গতকাল (সোমবার) ব্যথা পেয়েছে। তবে এখন সে আশঙ্কামুক্ত আছে। সকালে হাসপাতাল থেকে হোটেলে ফিরেছে। তার একটা ছোট অপারেশন প্রয়োজন, সেটা আমরা দেশে গিয়ে করাব। গোলকিপার হিসেবে আসিফ নিজেকে প্রমাণ করেছে, দেখিয়েছে সে শ্রাবণের জায়গা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’

শ্রাবণের জায়গায় আজ দলের নেতৃত্ব দেবেন আশরাফুল হক আসিফ। ঠিক ২০০৩ সালে রজনীর জায়গায় যেমন দিয়েছিলেন হাসান আল মামুন। অগ্রজের মতো তিনিও চান শিরোপাটা নিজের হাতে তুলে নিতে, ‘নেপাল ভালো দল। তারা স্বাগতিক। এটা তাদের বাড়তি সুবিধা দেবে। মাঠ ও সমর্থকদের সমর্থন তারা পাবে। তবে আমরা আমাদেরটা দেখাব। ভারতকে হারানোর পর আমরা মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী। আমরা যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারি এবং কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলি, তবে আমরাই শিরোপা জিতব।’

আনফা কমপ্লেক্স হোক ঢাকা স্টেডিয়াম, আশরাফুল হয়ে উঠুন হাসান আল মামুন। তবেই ঘুচবে সাফল্য খরা। মরা ফুটবলে এ সবই যে ধরা হয় অনেক বড় প্রাপ্তি হিসেবে।