এস আলম গ্রুপের যে ছয়টি ব্যাংকের এলসি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, তা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চালু করার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল তথা ইডিএফ ফান্ড এখনই বন্ধ না করে বিদ্যমান তিন বিলিয়ন ডলারের ইডিএফ ফান্ড অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে রপ্তানির চাকা সচল রাখতে পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার বিশেষ ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রতিনিধিদলের এক জরুরি বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল্লাহ হিল রাকিব প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, আর্থিক খাতে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি এবং ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের কারণে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ছয়টি ব্যাংকের এলসি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে এসব ব্যাংকের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কার্যক্রম আবার সচল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেন ব্যবসায়ী নেতারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আশ্বাস দেন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব ব্যাংকের বোর্ড পুনর্গঠন হয়ে যাবে। এরপর এলসি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের আরও কয়েক দিন ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন গভর্নর। এ সময় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল এখনই বন্ধ না করে বিদ্যমান তিন বিলিয়ন ডলারের ফান্ড চালু রাখার আবেদন করা হয়। গভর্নর বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।
বৈঠক শেষে বিজিএমইএ সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল্লাহ হিল রাকিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক তিন হাজার কোটি টাকার একটি সফট লোন প্যাকেজ চালু করতে সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া ইডিএফ কার্যক্রম চালু থাকবে। ছয় ব্যাংকের এলসি সমস্যা ও দ্রুত সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন গভর্নর।’