তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের জুজু দেখাচ্ছে রাশিয়া

হামলা সামাল দেওয়ার চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাল্টা হামলা চালানো যে অনেক ক্ষেত্রেই যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে তার নজির দেখছে ইউক্রেন। চলতি মাসের প্রথম দিকে রাশিয়ার ভেতরে ঢুকে হামলা চালাতে শুরু করে ইউক্রেন। রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে তিন সপ্তাহের সামরিক অভিযানে বেশ কিছু এলাকা দখলে নেওয়ার দাবি করেছে ইউক্রেন। আর গত মঙ্গলবার দেশটি দাবি করেছে, ওই অঞ্চলে তারা মোট ৫৯৪ রুশ সেনাকে আটক করতে পেরেছে।

এদিকে এমন পরিস্থিতিতে অনেকটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। অবশ্য তার ভাষ্য, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমেই শেষ হবে। তবে আলোচনায় ইউক্রেনকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে থাকতে হবে। এ জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান দুই দলের প্রার্থীদের কাছে তিনি একটি ‘বিজয় পরিকল্পনা’ উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন।

তবে জেলেনস্কি এমন কথা যখন বললেন, তখন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ যুক্তরাষ্ট্রকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার অনেক গভীরে ইউক্রেনকে সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালাতে দিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো আগুন নিয়ে খেলছে। তাই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কেবল ইউরোপে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

বিবিসি জানায়, ৬ আগস্ট সীমান্তবর্তী রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে স্থল অভিযান শুরু করে ইউক্রেন। কিয়েভের দাবি, তারা এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ১ হাজার ২৯৪ বর্গকিলোমিটার অঞ্চল ও ১০০ বসতি দখলে নিয়েছে। বিবিসি এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দেখতে পারেনি।

তবে গত মঙ্গলবার কিয়েভের কমান্ডার ইন চিফ জেনারেল ওলেকসান্দর সিরস্কি দাবি করেন, তিন সপ্তাহ লড়াইয়ের পর ১০০ রুশ বসতি এবং ১ হাজার ২৯৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা (৫০০ বর্গমাইল) দখল করেছে ইউক্রেন। এ ছাড়া ৫৯৪ রুশ সেনাকে আটক করা হয়েছে।

সিরস্কি বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে ৩০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। তারা পাল্টা হামলা চালাতে চাইছে এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীকে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা করছে। তবে রাশিয়ার এমন প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হচ্ছে। সিরস্কি বলেন, ইউক্রেনের দখল করা দক্ষিণাঞ্চল থেকে কিছু সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্য জায়গা থেকে সেনা প্রত্যাহারের চেষ্টা করছে রাশিয়া। তবে পোকরোভস্কে তারা তাদের তৎপরতা বাড়াচ্ছে। সিরস্কির অভিযোগ, রাশিয়া সরবরাহ লাইনগুলোতে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে গত মঙ্গলবার কিয়েভে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি জানান, তিন সপ্তাহ আগে রুশ ভূখণ্ডে ইউক্রেনের সেনাদের অনুপ্রবেশ সেই বিজয় পরিকল্পনারই অংশ। পরিকল্পনায় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ও যুক্ত করা হবে। জেলেনস্কি বলেন, পরিকল্পনার মূল বিষয় হলো রাশিয়াকে যুদ্ধ শেষ করতে বাধ্য করা। আমি চাই, এমনভাবে যুদ্ধটি শেষ করা হোক, যা ইউক্রেনের জন্য ন্যায়সংগত হবে।

গত সপ্তাহে কিয়েভ সফর শেষে মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফোনালাপে মোদি পুতিনকে জানান, তিনি চান আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ তাড়াতাড়ি শেষ হোক।

তবে কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের অনুপ্রবেশের পর কিয়েভের সঙ্গে কোনো শান্তি আলোচনা হতে পারে না বলে আগেই জানিয়েছে রাশিয়া। আর গত মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, ‘আমরা আরও একবার নিশ্চিত করে বলে দিচ্ছি যে আগুন নিয়ে খেলা চলছে, আর তারা (পশ্চিমা বিশ্ব) ছোট বাচ্চাদের মতো দেশলাই নিয়ে খেলছে। একটি বা অন্য আরেকটি পশ্চিমা দেশে পারমাণবিক অস্ত্র হাতে থাকা বয়স্ক চাচা-চাচিদের জন্য এটি খুবই বিপজ্জনক।’