নরসিংদীর মনোহরদীতে অধিক মুনাফার প্রলোভনে গ্রামবাসীর কাছ থেকে বাদল সরকার ও তার স্ত্রী অরিন রহমান প্রায় ৪০ কোটি টাকা নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের চঙ্গভান্ডা গ্রামে প্রতারক দম্পতির বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আফসার উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে বলেন, চঙ্গভান্ডা গ্রামের বাদল সরকার ও তার স্ত্রী অরিন রহমান (মুনমুন) অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে চিনি ও সয়াবিন তেলের ব্যবসার নামে ওই গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের দুই শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। টাকা নেওয়ার কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও লভ্যাংশ দেওয়া হয়নি তাদের। একপর্যায়ে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দেওয়া হয়। তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তার স্ত্রী ঋণের বোঝা সইতে না পেরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পুত্রবধূর মৃত্যুর তিন দিন পর এই শোকে আফসার উদ্দিনের মা আনোয়ারা বেগমও মারা যান। এ ছাড়া অনেক পাওনাদারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন অরিন রহমান।
আফসার উদ্দিন আরও জানান, ব্যবসার নাম করে তার কাছ থেকে ৭৬ লাখ টাকা, চঙ্গভান্ডা গ্রামের রকি মিয়ার থেকে ৫৫ লাখ টাকা, রুবেল মিয়ার থেকে ৩০ লাখ, তার মা নাজমা বেগমের থেকে ১৩ লাখ, আলমগীরের থেকে ৬০ লাখ, সোহানুর রহমান রিমনের থেকে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বাদল-অরিন দম্পতি। সংবাদ সম্মেলনে শতাধিক ভুক্তভোগী উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় সহজ-সরল গ্রামবাসীর কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাওনা টাকা চাইতে গেলেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বিভিন্নভাবে ভয় দেখাত।
স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপর গা-ঢাকা দেন বাদল সরকার ও তার স্ত্রী অরিন রহমান।
এ বিষয়ে কথা বলতে বাদল সরকারের বাড়িতে গিয়ে ঘর তালাবদ্ধ পাওয়া পাওয়া যায়। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। মনোহরদী থানার ওসি আবুল কাশেম ভূঁইয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত সহায়তা করা হবে।’