রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ এর অঙ্গ সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২৭ দিন পর জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধের আদেশ প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রণালয়।
নিষিদ্ধের আদেশ প্রত্যাহারের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ভিন্নদিকে নিয়ে যেতে আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ১ আগস্ট জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হয়। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে।
জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের বিষয়ে দলটির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, তা প্রত্যাহার করেছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নিবন্ধন ফিরে পেতে এখন আইনি লড়াই শুরু করা হবে।’
জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘যেহেতু, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কয়েকটি মামলার রায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (পূর্বনাম জামায়াত-ই-ইসলামী/জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ) এবং উহার অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে (পূর্বনাম ইসলামী ছাত্রসংঘ) ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ী হিসেবে গণ্য করা হইয়াছে।’
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘যেহেতু বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বাতিল করিয়া দিয়াছে এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগের উক্ত রায়কে বহাল রাখিয়াছে। যেহেতু, সরকারের নিকট যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রহিয়ছে যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং উহার অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাম্প্রতিককালে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে সরাসরি এবং উসকানির মাধ্যমে জড়িত ছিল; এবং যেহেতু, সরকার বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উহার সকল অঙ্গ সংগঠন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সহিত জড়িত রহিয়াছে। সেহেতু, সরকার, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ধারা ১৮(১)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উহার সকল অঙ্গ সংগঠনকে রাজনৈতিক দল ও সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করিল। উক্ত আইনের তফসিল-২-এ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উহার সকল অঙ্গ সংগঠনকে নিষিদ্ধ সত্তা হিসাবে তালিকাভুক্ত করিল।’
গতকাল প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং উহার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উহার সকল অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাস ও সহিংসতায় সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায় নাই; এবং যেহেতু সরকার বিশ্বাস করে যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং উহার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উহার সকল অঙ্গ সংগঠন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জড়িত নহে’, তাই দলটির নিষিদ্ধ ঘোষণা-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হলো। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জামায়াতের আমির বলেন, ‘সর্বশেষ জামায়াতকে যে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, সেটা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের কারও প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই। আমি ক্ষমা করে দিলাম। কিন্তু ন্যায়বিচারের স্বার্থে যারা সুনির্দিষ্ট অপরাধী তাদের শাস্তি পেতে হবে। যাতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি না হয়।’