বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি আর অসংগতির কথা তুলে ধরে এ খাত সংস্কারের কথা বলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের কোম্পানিগুলো পুনর্গঠন করা হবে, সচিবরা যেগুলোর চেয়ারম্যান রয়েছেন, বদলে দেব। খুব অপরিহার্য না হলে সচিবরা কোনো কোম্পানির বোর্ড চেয়ারম্যান হতে পারবেন না। পাশাপাশি এসব কোম্পানিতে ছাত্র প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে অচিরেই।’
গতকাল বুধবার জ্বালানি বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জ্বালানি উপদেষ্টা।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পেট্রোবাংলার অডিটরিয়ামে আয়োজিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. নূরুল আলম, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার, বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান প্রমুখ।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘আগে যেভাবে কাজ করতেন এখন সেভাবে করলে হবে না। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষের পরিবর্তনের প্রত্যাশাকে অনুধাবন করতে হবে। রাজপথের ভাষা বুঝতে না পারলে সবার কী পরিণত হবে, তা বুঝতে হবে। মানুষ কেন রাস্তায় নেমে এসেছিল, কেন রক্ত দিয়েছিল তা বুঝতে হবে এবং অনুধাবন করতে হবে।’
সবাইকে তেলবাজির সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুহাম্মদ ফাওজুল কবির বলেন, ‘আপনি কেন একজন সচিব, মন্ত্রী কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রশংসা করবেন? প্রশংসা করতে হবে মহান সৃষ্টিকর্তার। এরপর মা- বাবাকে। তারপর যদি প্রশংসা করতে হয় তাহলে ছাত্র-জনতাকে, যারা দেশের জন্য রক্ত দিয়েছেন।’
‘মানুষ আজ ক্ষিপ্ত, কারণ গ্যাস না পেয়েও তাদের বিল দিতে হচ্ছে। পেট্রোবাংলা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিতে নিমজ্জিত, যেখানেই হাত দিচ্ছি সেখানেই দুর্নীতি দেখতে পাচ্ছি। এগুলো কিন্তু আর চলবে না। আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই’ যোগ করেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘বিগত দিনে মন্ত্রীরা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন, সচিবরা সেই সুযোগ নিয়েছেন। দুর্নীতি করলে আপনি যত দক্ষ হোন, তাকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আগে হয়তো দুর্নীতি করতে বাধ্য হতেন, এখন তা করতে হবে না। কার পরিচয় কী, তা এখানে দেখা হবে না। আমরা সংস্কার করব। যদি কাজ করতে না পারি তাহলে আমি চলে যাব।’
ফাওজুল কবির বলেন, ‘খুলনায় ৮৮০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে গ্যাস দেওয়ার সক্ষমতা নেই। এটা কোন ধরনের পরিকল্পনা হলো? গ্যাসের সংস্থান না করেই বিদ্যুৎকেন্দ্র কেন নির্মাণ করা হলো?’ ‘সব জায়গায়ই সংকট-সমস্যা। বিদ্যুৎ কিনছি, টাকা দিতে পারছি না। শিল্পে গ্যাস দিতে পারছি না বলে শিল্পমালিকদের থেকে লুকিয়ে থাকি। সার কারখানায় গ্যাস দিতে পারছি না, বিদ্যুতে গ্যাস দিতে পারছি না। গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে গেলে আমদানি করতে হবে, আমদানি করার ডলার নেই’ বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘সামিট গ্রুপের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অপারেশনে আসবে। তাতে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়লে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হবে।’
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সহকারী উপদেষ্টা হিসেবে ছাত্র প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছিল। এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সমন্বয়ককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।