৩৯ দিন লড়াইয়ের অবসান মৃত্যুতে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিতে আহত শাহরিয়ার সোহান (২৮) মারা গেছেন। ৩৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার মৃত্যু হয়। নিহত সোহান মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের শাহ সেকেন্দার আলীর ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, নিহত সোহান লেখাপড়ার পাশাপাশি ঢাকায় ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করতেন। দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তাকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার। সোহানের পরিবারে তার স্ত্রী, বাবা-মা ও ছোট ভাই রয়েছে।

এ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে গুলি, সংঘর্ষ ও বিভিন্ন ধরনের সহিংসতায় ১৬ জুলাই থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ৭৫৮ জনের মৃত্যু হলো।

১৯ জুলাই সন্ধ্যায় ঢাকার রামপুরা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিল বের হয়। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তখন কোম্পানির কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন সোহান। এরই মধ্যে হঠাৎ একটি গুলি তার বুকে লাগে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন সোহানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শরীরে আটকে থাকা গুলি বের করতে ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

গতকাল বেলা ১১টায় ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সোহানের প্রথম জানাজা হয়। পরে বিকেলে শ্রীপুরের পূর্বপাড়া ঈদগাহ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে শ্রীপুর পূর্বপাড়া সম্মিলিত কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত সোহানের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে তার মরদেহ দেখতে যান।

সোহানের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাবা শাহ সেকেন্দার আলী বলেন, ‘আমার ছেলের অনেক বড় স্বপ্ন ছিল। স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষ করে অনেক বড় চাকরি করবে। সংসারে অভাব-অনটনের জন্য সে লেখাপড়ার পাশাপাশি চাকরি করত। আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে, এখন আমরা কীভাবে বাঁচব?’

নিহতের নানা আশরাফ হোসেন পল্টু বলেন, ‘সোহান লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করত। পুরো সংসার তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন তাদের কীভাবে চলবে? একটি গুলিই তাদের সব শেষ করে দিল।’