জাতীয় ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিসহ ছয়টি অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মিলহানুর রহমান নাওমী। গতকাল বুধবার তিনি দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন করেন।
আবেদনে সাকিবের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে কারসাজি, নিষিদ্ধ জুয়ার ব্যবসা, স্বর্ণ চোরাচালান, প্রতারণার মাধ্যমে কাঁকড়া ব্যবসায়ীদের অর্থ আত্মসাৎ, ক্রিকেট খেলায় দুর্নীতি ও নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, সাকিবের ছয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কারসাজি করে ১০৪ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের ১৫ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ওয়ান ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য ৫৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৪৬ কোটি ৩২ লাখ ৩ হাজার ৩৪৪ টাকা লোপাট করেন। এ ছাড়া ২০২১ সালের ২০ মে থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত ফরচুন সুজের শেয়ার কারসাজি করে ১৬ কোটি ৬০ লাখ ৬৭ হাজার ৩৯১ টাকা, এশিয়া ইন্সুরেন্সের ৫ কোটি ৪৫ লাখ ১৪ হাজার ৪৫৩ টাকা, এনআরবিসি ব্যাংকের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ টাকা এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ১২ কোটি ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭৪ টাকা লোপাটের সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাকিব ২০১৬ সালে সাতক্ষীরা উপজেলার দাতিনাখালিতে একটি কাঁকড়ার খামার স্থাপন করেন। এ খামারের জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকার সফট সেল কাঁকড়া সংগ্রহ করেন। কিন্তু তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের টাকা পরিশোধ করেননি।
অভিযোগে বলা হয়, সাকিব দ্বাদশ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা দাখিল করেছেন তাতে তথ্য গোপন করা হয়েছে। তার পাওয়ার প্ল্যান্টের লাইসেন্স, পিপলস ব্যাংকের মালিকানা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল বিজনেস, স্বর্ণ আমদানি, অনলাইনে জুয়া খেলা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, কক্সবাজারে হোটেল হোয়াইট স্যান্ডে ২০ হাজার বর্গফুটের মালিকানা, ঢাকায় দুটি রেস্টুরেন্ট ও কসমেটিকস ব্যবসা রয়েছে। আমেরিকায় তার স্ত্রীর নামে বাড়ি ও সৌদি আরবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শেয়ার রয়েছে। তিনি এসব স্থাবর-অস্থাবর অনেক সম্পদের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেননি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সাকিব এবং তার ব্যবসায়িক অংশীদার রাশেক রহমানের রিলায়েবল কমোডিটিস এক্সচেঞ্জ কোম্পানি এবং বুরাক কমোডিটিস এক্সচেঞ্জ কোম্পানি আইন না মেনে স্বর্ণের ব্যবসা শুরু করেন। সাকিব বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন না নিয়ে স্বর্ণ আমদানি ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারের শুল্ক ও রাজস্ব কর এড়িয়ে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে ১৯৬৯ সালের কাস্টমস অ্যাক্ট-এর ২(এস) অনুযায়ী চোরাচালানের অপরাধ সংগঠন করেছেন। এসব বিষয় অনুসন্ধানের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার বলে অভিযোগকারী আইনজীবী তার আবেদনে উল্লেখ করেছেন।
ক্রিকেটার সাকিব বর্তমানে জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট খেলতে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পোশাককর্মী রুবেল হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সাকিবসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে।