সব ইউনিটে আ.লীগপন্থি চিকিৎসক বাদ

জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের আওয়ামী লীগপন্থি চিকিৎসকদের সব ইউনিটপ্রধান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে সাজানো হয়েছে ইউনিট। এতে বাদ পড়েছেন বিগত সরকারের সময়কার ১০ ইউনিটপ্রধান। তাদের মধ্যে ছয়জন অধ্যাপক ও চারজন সহযোগী অধ্যাপক রয়েছেন।

ইউনিটপ্রধান থেকে বাদ পড়া শিক্ষক ও চিকিৎসকরা হলেন ডা. সালাহউদ্দিন উলুব্বী, ডা. জিল্লুর রহমান, ডা. মহসীন আহমদ, ডা. সমীর কুমার কুন্ডু, ডা. প্রদীপ কুমার কর্মকার, ডা. এম জি আজম, ডা. জুলফিকার আলী লেলিন, অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান বাবু, ডা. নুর আলম ও ডা. কাজল কুমার কর্মকার। নতুন কোনো দায়িত্ব না দেওয়ায় এসব চিকিৎসক এখন থেকে আর হাসপাতালে রোগীদের কোনো ধরনের চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে পারবেন না।

এসব চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা করা, আওয়ামী লীগের পক্ষে শান্তি সমাবেশে অংশ নেওয়া এবং কারও কারও বিরুদ্ধে গত সরকারের সময় নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

গত ২৭ আগস্ট ইউনিট বিভাজন-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মহসীন হোসেন।

বর্তমানে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন একটি কনফারেন্সে অংশ নিতে লন্ডনে অবস্থান করছেন। গত মঙ্গলবার থেকে তিনি ছুটিতে। তার ফিরতে সাত দিনের মতো লাগতে পারে বলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

ইউনিট বিভাজন প্রসঙ্গে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. মহসীন হোসেন গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী সবাই এসে আমার কাছে দাবি করেছেন, যারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, মিটিংয়ে গেছেন, বৈঠক করেছেন, শহীদ মিনারে শান্তি-সমাবেশে গেছেন, তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আহতদের ঠিকমতো চিকিৎসা না করার অভিযোগও রয়েছে। এত মানুষের দাবি উপেক্ষা করা যায় না। তাদের অব্যাহতি দিয়ে দক্ষ চিকিৎসক দিয়ে ইউনিটগুলো পুনর্বিন্যাস করেছি, যাতে চিকিৎসার কোনো অসুবিধা না হয়।’ তবে ইউনিট থেকে বাদ পড়া এসব চিকিৎসক এখন ঠিক কী কাজ করবেন, সেটার সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারেননি এই কর্মকর্তা।

আওয়ামী লীগপন্থিদের ওপর ক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা : ইউনিটপ্রধান থেকে বাদ পড়া এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাদ পড়া চিকিৎসকদের মধ্যে ডা. মাহবুবুর রহমান বাবু, ডা. কাজল কুমার কর্মকার ও ডা. জুলফিকার আলী লেলিন আওয়ামী লীগপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতা। বাকি সাতজন কখনোই স্বাচিপের রাজনীতি করেননি। তারা সবাই অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও শিক্ষক। তাদের অনুপস্থিতি চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১/২ আগস্ট হাসপাতাল পরিচালনার বিষয়ে কনফারেন্স রুমে পরিচালকের উপস্থিতিতে একটি সভা হয়। সভায় ১৫-১৬ জন ইউনিটপ্রধান অংশ নেন। সেই সভার ছবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধের বৈঠক বলে প্রচার করা হচ্ছে। এমনকি যে ছবি দিয়ে ব্যানার তৈরি করে হাসপাতালের গেটে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটাও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ তবে সাধারণ চিকিৎসকরা বলেছেন, যাদের ইউনিট বাতিল করা হয়েছে, তারা সবাই আওয়ামী লীগ ঘরানার মানুষ। এত বছর স্বাচিপ বা আওয়ামী লীগ ঘরানার চিকিৎসকদের অনেক অত্যাচার সাধারণ চিকিৎসক বা বিএনপি-জামায়াতপন্থি চিকিৎসকরা সহ্য করেছেন। এখন পটপরিবর্তন হয়েছে। এখন তো আর সহ্য করবে না।

তারা জানান, হৃদরোগ হাসপাতাল চলত মূলত স্বাচিপের চার প্রভাবশালী নেতার কথায়। তাদের মধ্যে ডা. জুলফিকার আলী লেলিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকর্তা ছিলেন ও সার্জারি বিভাগের ডা. আশরাফুল হক সিয়াম আওয়ামী লীগের সাবেক পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের ভাই। অন্য দুই স্বাচিপ নেতা হলেন ডা. মাহবুবুর রহমান বাবু ও ডা. কাজল কুমার কর্মকার। ১৫ বছরে স্বাচিপের এই চিকিৎসকরা যা অনিয়ম ও অন্যায় করেছেন, সেটা হাসপাতালের সবাই দেখেছেন ও ভুক্তভোগী।