মৌলভীবাজারে বন্যায় জেলার প্রায় সাড়ে তিনলাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, ভারতের উজানে বৃষ্টিপাত না থাকায় জেলার সবকটি নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এ দিকে মনু ও ধলাই নদীর ভেঙে যাওয়া স্থানে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গেল কয়েকদিনে মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ উচু স্থানের পানি সরে গেছে। এতে অনেকের বাড়িঘর থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। ফলে অনেকে বাড়িঘরে ফিরছেন। অনেকে আবার বন্যায় ধসে পড়া ঘরবাড়ি মেরামতের কাজ করছেন। সেই সঙ্গে ঘরের ভেতর আটকে থাকা কাদাপানি সরাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, ‘তৃতীয় দফা বন্যায় তাদের এলাকায় ৮ থেকে ৯ ফুট পানি উঠেছে। ঘরের চালের সঙ্গে নদীর পানি ছিল। এখন পানি সরে গেছে।’
শফিক আহমদ বলেন, ‘এ রকম বন্যা আমার জন্মের পর দেখিনি। একসঙ্গে এতো পানির ঢল নেমে ঘর অর্ধেক ডুবে গেছে।’
বন্যাকবলিত গ্রামবাসীরা জানান, দফায় দফায় বন্যায় তারা একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। কারো ঘরের দরজা ভেঙে গেছে। আবার কারো ঘর ধসে গেছে। একই অবস্থা জেলায় প্রতিটি বন্যাদুর্গত এলাকায়। মনু পাড়ের বন্যাদুর্গত লোকজন চরম বেকায়দায় পড়েছেন।
এদিকে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা গেছে। তবে অনেকেই জানিয়েছেন, প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম।
পাউবো জানায়, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে বৃষ্টিপাত কমে আসায় জেলার মনু, ধলাই, কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুততার সঙ্গে নামছে। এতে বন্যার উন্নতি হচ্ছে।
পাউবোর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভাঙনকৃত মনু নদীর কুলাউড়া আশ্রয়ণ ও কমলগঞ্জের ধলাই নদীর ঘোড়ামারা এলাকায় বাঁধ মেরামত কাজ শুরু করা হয়েছে। এ দুটি বাঁধ মেরামতের পর অন্য ভাঙা বাঁধ মেরামতের কাজ করা হবে।
তিনি আরও জানান, ‘বর্তমানে জেলার সবকটি নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’
জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। বরাদ্দ পাওয়ার পর তা সাথে সাথে বিতরণ করা হবে।’