ত্রাণবাহী গাড়িতে হামলা তীব্র খাদ্য সংকটের শঙ্কা

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জাতিসংঘের ত্রাণবাহী গাড়িতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ত্রাণকর্মীদের চলাচল স্থগিত করেছে জাতিসংঘের খাদ্য সংস্থা। আলজাজিরা জানায়, ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত একটি চেকপয়েন্টে বন্দুকযুদ্ধের সময় ডব্লিউএফপির একটি গাড়িতে সরাসরি গুলি করে ইসরায়েলি বাহিনী। গাড়িটি ওয়াদি গাজা ব্রিজ চেকপয়েন্টের কাছে আসার সময় এ ঘটনা ঘটে। এরপরই ‘পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি না দেওয়া পর্যন্ত’ গাজায় সংস্থাটির ত্রাণকর্মীদের চলাচল স্থগিত করা হয়। প্রায় ১০ মাসব্যাপী চলমান যুদ্ধে এই প্রথম জাতিসংঘের ত্রাণবাহী গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটল।

তবে গাড়িটিতে থাকা ত্রাণকর্মীদের কেউই শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি বলে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য সংস্থা। এ হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। গাড়িটি লক্ষ্য করে ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয় বলে জানান তিনি। গাজায় কেন্দ্রীয় এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার পর দুটি ডব্লিউএফপি সাঁজোয়া যান নিয়ে ফিরছিল দলটি। ডুজারিক বলেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে গাড়িবহরটির গতিবিধি সমন্বয় করার পরও হামলার ঘটনা অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের অনৈতিক আগ্রাসনের প্রমাণ রাখে। ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক সিন্ডি ম্যাককেইন এ হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছেন। এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অভিযানে ১৮ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। সেখানে সংঘাত বন্ধে ইসরায়েলের প্রতি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সেই সঙ্গে জেনিন, তুলকারেম, তুবাসসহ অন্যান্য এলাকায়ও যুদ্ধ বন্ধের তাগিদ জানান জাতিসংঘ প্রধান। অন্যদিকে পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এ নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে ‘হ্যাশমোর ইয়োস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এবং আইজ্যাক লেভি ফিল্যান্ট নামের এক ব্যক্তি। প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের অর্থায়ন ও নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি কোনো মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে লেনদেন করতে পারবে না।