আট বছরেরও বেশি সময় পর জম্মু-কাশ্মীরে হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচন। সে লক্ষ্যে নিজেদের প্রস্তুতি সারছে রাজনৈতিক দলগুলো। কিন্তু দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন হলেও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী নন অঞ্চলটির বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতাদের অনেকেই।
জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার ভোটে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারণায় না নামার ঘোষণা দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ আজাদ পার্টির নেতা গুলাম নবী আজাদ। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান রাজ্যের সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি যদি প্রার্থীরা মনে করেন তার অনুপস্থিতি জয়ের পক্ষে অন্তরায় হবে, তাহলে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিতে বলেন তিনি। প্রথম পর্বের নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য গুলাম নবী আজাদের ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ আজাদ পার্টির ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। ফলে গুলাম নবীর এ সিদ্ধান্ত আজাদ পার্টিতে ব্যাপক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। ২০২২ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এই দল গড়ে তোলেন গুলাম নবী।
শুধু গোলাম নবীই নন, আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি অবশ্য গুলাম নবী আজাদের পথে হাঁটেননি। সরাসরিই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও, রাজ্যের মানুষের প্রত্যাশা ও দলের প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করতে পারবেন না বলেই নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ফলে জম্মু-কাশ্মীরের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই হবে মূলত বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেস-ন্যাশনাল কনফারেন্স-সিপিএম জোটের। তবে এসব দলের পথও খুব একটা মসৃণ নয়। নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বিজেপি শিবিরে। পুরনো নেতাদের উপেক্ষা করে নতুনদের প্রার্থিতা দেওয়ায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রবীণ নেতারা। ভাঙচুর হয় জম্মুর দলীয় কার্যালয়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৬ জনের পরিবর্তিত তালিকা দেয় দলটি। তবে বিধানসভা ভোটে বিজেপির ভাগ্য নির্ভর করছে দলছুটদের ওপর।
ঝঞ্ঝাটমুক্ত নয় বিরোধী শিবিরও। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জোট বেঁধেছে কংগ্রেস, ন্যাশনাল কনফারেন্স ও সিপিএম। তাদের জোটবদ্ধ হওয়ার কথা ঘোষণার পরপরই আসন সমঝোতা নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। বিধানসভার মোট ৯০ আসনের মধ্যে এনসি লড়বে ৫১ আসনে, কংগ্রেস ৩২টিতে। আর একটি করে আসনে লড়বে সিপিএম ও প্যান্থার্স পার্টি। এখনো পাঁচটি আসন নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি এনসি ও কংগ্রেস। নির্বাচনে লড়বে তিহার জেলে বন্দি ইঞ্জিনিয়ার রশিদের দল ‘আওয়ামি ইত্তেহাদ পার্টি’। লোকসভা নির্বাচনে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহকে দুই লাখের বেশি ভোটে পরাজিত করেছিলেন তিহার জেলে বন্দি রশিদ। ১০ থেকে ১২টি আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তার দল।
৯০ আসনবিশিষ্ট জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় সরকার গড়তে ৪৬ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। তবে কোনো দলই সেটি পূরণ করতে না পারলে, আবারও কেন্দ্রের হাতে চলে যেতে পারে এ অঞ্চলের শাসনভার। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম দফার পর ২৫ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ও ১ অক্টোবর তৃতীয় দফার ভোটগ্রহণ। ফল প্রকাশ করা হবে ৪ অক্টোবর।