নিখোঁজ ৪১৬ জনের অপেক্ষায় স্বজনরা

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল। কমান্ডো স্টাইলে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীকে অপহরণ করা হয়। তার স্ত্রী-সন্তানকে গণভবনে ডেকে নিয়ে সান্ত¡না দিয়ে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ইলিয়াস আলীকে উদ্ধার করা হবে। অপহরণে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবেই। অথচ ইলিয়াস আলীকে গুমের সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ কর্তারা ছিলেন অবহিত। আজও তার কোনো হদিস মেলেনি। এখনো তার পরিবার অপেক্ষা করছে তিনি ফিরে আসবেন। এর আগে ২০১০ সালের ২৫ জুন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক কাউন্সিলর চৌধুরী আলম নিখোঁজ হন। তাকেও গুম করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই দুটি ঘটনার মতো গত দেড় দশকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৬২৯ জনকে অপহরণ করা হয়েছে। তারমধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৭৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ফিরে এসেছেন ৬২ জন ও লাশ উদ্ধার হয়েছে ৭৮ জনের। আর এসব ঘটনার সঙ্গে র‌্যাব, পুলিশ ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) জড়িত ছিল বলে অপহৃতদের পরিবার অভিযোগ করেছেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ‘আয়না ঘরের’ সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে অপহৃতদের গুম করা হতো।

সরকার পতনের পর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী, মীর কাশেম আলীর ছেলে আহমেদ বিন কাশেম আরমান, পার্বত্য চট্টগ্রামকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফের সংগঠক মাইকেল চাকমা আয়নাঘর থেকে ফিরে আসেন। তারা আয়না ঘরের লোমহর্ষক বিবরণ দিলে দেশ-বিদেশে আলোচনা ঝড় ওঠে। এই ঘটনায় সেনা ও নৌবাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো দুই কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও এম সোহায়েলকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাদের গুমের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগবিরোধী নেতা ও ভিন্ন মতাদর্শের ব্যক্তিদের অপহরণ করে বছরের পর বছর ধরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। কাউকে হত্যা করা হয়েছে। আবার কাউকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগদের গুম করে রাখা হয়েছে। আদৌ তারা জীবিত আছেন নাকি মেরে ফেলা হয়েছে তাও কেউ বলতে পারছেন না। তবে এখনো স্বজনরা আশাবাদী তারা ফিরে আসবেন।

এমন প্রেক্ষাপটে আজ ৩০ আগস্ট শুক্রবার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষদের স্মরণে এবং গুমের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতেই দিবসটি পালনের ঘোষণা দেয় জাতিসংঘ।

মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, গুমের শিকার বেশিরভাগ মানুষই সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। গুমের পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে কার্যকর তদন্ত হয় না বললেই চলে।

মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকারের’ তথ্যানুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ৭০৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন।

তবে অপর মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলেছে, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৩ সালে গুমের শিকার হয়েছেন ৬২৯ জন। তারমধ্যে ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি ৯৭ জন গুম হন। পরিসংখ্যান বলেছে, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিন বছরে ২১ জন গুম হন। ২০১০ সালে ৪৭ জন, ২০১১ সালে ৫৯ জন, ২০১২ সালে ৫৬ জন, ২০১৩ সালে ৭২ জন, ২০১৪ সালে ৮৮ জন, ২০১৫ সালে ৫৫ জন, ২০১৭ সালে ৬০ জন, ২০১৮ সালে ৩৪ জন, ২০১৯ সালে ১৩ জন, ২০২০ সালে ৬ জন, ২০২১ সালে ৭ জন, ২০২২ সালে ৫ জন ও ২০২৩ সালে ৯ জন গুমের শিকার হন।

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে শীর্ষ মহলের নির্দেশে ডিজিএফআই, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), পুলিশ, র‌্যাব ও ডিবি পুলিশ আয়নাঘর তৈরি করে। বিরোধীদের গুমের পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহম্মেদ সিদ্দিক।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধানে অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করেছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনকে গুম করার অভিযোগে ৮ বছর পর গত বুধবার আদালতে মামলার আবেদন করেছেন তার স্ত্রী নাইস খাতুন। ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার স্বামীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে তৎকালীন র‌্যাব-৫ এর রেলওয়ে কলোনি ক্যাম্পে কর্মরত ৭ জনকে আসামি করে তিনি মামলাটি করেন।

গত মঙ্গলবার যশোরের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) ও বর্তমান রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আনিসুর রহমান, কোতোয়ালি থানার ওসি শিকদার আক্কাস আলী ও উপপরিদর্শক আবু আনসারসহ পুলিশের ৭ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। ৯ বছর আগে যশোরের নওয়াপাড়ায় বিএনপিকর্মী মাসুদকে অপহরণের ঘটনায় মামলাটি করা হয়।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কমিশনের মূল দায়িত্ব হলো সত্য উদ্ঘাটন করা। গুম মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। গুমকে যদি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কেউ ব্যবহার করে, সেটি আরও অনেক বড় অপরাধ। অভিযোগের দায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এড়াতে পারবে না। যারা এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত তাদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারলে দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করার দুঃসাহস করবে না কেউ।

র‌্যাব পরিচয়ের লোকের হাতে অপহৃত বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০১৩ সালে ৪ ডিসেম্বর তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়ার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। তারপর থেকে ভাইয়ার আর কোনো খোঁজ মিলছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় আমরা যোগাযোগ করেছি। সবাই বলেছে ভাইয়াকে তারা ধরে নিয়ে যায়নি। অথচ তাকে ধরে নিয়ে গুম করে রেখেছে। দিবসটি এলে আমরা পালন করি। ভাইয়া আমাদের মধ্যে ফিরে আসবেন এই আশাই করছি।’

ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা জানান, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসেও আমার স্বামীকে ফেরত পাইনি। তারপরও আশায় আছি ইলিয়াস আলী ফেরত আসবেন।’

বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামেরও হদিস নেই। তার মেয়ে মাশরুরফা ইসলাম জানিয়েছেন, সাদা পোশাকধারী পুলিশ পরিচয়ে তার বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। তিনি কোথায় আছেন তা আজও জানেন না তারা। এখনো আশায় আছেন তার বাবা ফিরে আসবেন।

অপহৃতদের পরিবারের তথ্যানুযায়ী, এখনো নিখোঁজ আছেন তেজগাঁও থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক এ এম আদনান চৌধুরী, সবুজবাগ থানা ছাত্রদলের সভাপতি মাহবুব হাসান সুজন, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি কাজী ফরহাদ, তেজগাঁওয়ের ২৫ নম্বর ওয়ার্ড (সাবেক ৩৮) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ ৭ জন, তেজগাঁও কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক তরিকুল ইসলাম ঝন্টু, সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতি সেলিম রেজা পিন্টু, সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহমেদ দিনার ও ছাত্রদল কর্মী জুনেদ আহমেদ, ফেনীর যুবদল নেতা সারোয়ার জাহান বাবুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হলের ছাত্রদল নেতা শামীম হাসান সোহেল, ৫০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য মাসুম হোসেন, যাত্রাবাড়ীর ৮৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি কাজী আতাউর রহমান লিটু, বরিশালের উজিরপুরের বিএনপি নেতা হুমায়ুন খান, চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, সূত্রাপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ, বোয়ালখালী থানা বিএনপির সভাপতি ও করলডেঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা নান্না, বরিশালের জাগুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন, সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাট মোল্লা, ছাত্রদল নেতা খালিদ হোসেন সোহেল, শাহবাগ থানা যুবদলের কর্মী লিটন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশিক, জিয়াউর রহমান শাহিন, শাহবাগের বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সোহেল প্রমুখ। তাদের হদিস নেই।

গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে সই করল বাংলাদেশ : রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের অভিযোগ নিয়ে দেশ-বিদেশে তীব্র সমালোচনার মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার গুম থেকে নাগরিকদের সুরক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সই করেছে বাংলাদেশ।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের জন্য প্রতি বছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক দিবস পালন করে বিভিন্ন দেশ। এ বছর দিবসটির এক দিন আগেই বাংলাদেশ জাতিসংঘের গুমবিরোধী সনদে সই করল।

উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক সভায় ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রটেকশন অব অল পারসনস ফ্রম ফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ শিরোনামের সনদে সই করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তখন করতালি দেন অন্য উপদেষ্টারা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। গুমের শিকার ব্যক্তিদের জন্য আন্তর্জাতিক দিবসের এক দিন আগে সনদে সই হলো।’

এর আগে, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে গুম হওয়া প্রতিটি ঘটনার তদন্তে এ সপ্তাহের শুরুতে একটি কমিশন গঠন করে অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার। কমিশনকে তদন্ত সম্পন্ন করে আগামী ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের শাসনকালে ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ধরে নেওয়ার পর লাশ উদ্ধার বা নিখোঁজের ঘটনা আলোচনায় ছিল। হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন, গোপন বন্দিশালায় দীর্ঘদিন আটকে রাখার ঘটনাও উঠে আসে সংবাদমাধ্যমে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরে পেতে দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে ন্যায়বিচার পাননি।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর সরকারের গোপন কারাগার থেকে বেশ কয়েকজনকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ কারাগার ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে ৭০০ জনের বেশি মানুষ গুম হয়েছেন। এর মধ্যে ১৫০ জনের বেশি মানুষের খোঁজ এখনো মেলেনি।

হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গুমের বিষয়গুলো সামনে আসে।

গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশন : গুমের হাত থেকে সব নাগরিককে রক্ষায় ২০০৬ সালে ২০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী সনদ গৃহীত হয়। সামগ্রিকভাবে গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের লক্ষ্য গুম বন্ধের পাশাপাশি এ অপরাধের জন্য দায়মুক্তি বন্ধ করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়া। বাংলাদেশের আগে বিশ্বের ৭৫টি দেশ এ সনদে যুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক ৯টি সনদের ৮টিতে সই করেছে। জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের অনুরোধের পরও বাংলাদেশ গুমবিরোধী সনদে সই করেনি। অন্তর্র্বর্তী সরকার মানবাধিকার সমুন্নত রাখার পাশাপাশি গুমের সংস্কৃতি বন্ধ করতে এতে যুক্ত হলো।

সনদে সই করার ফলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের জন্য সরকার বা এর কোনো প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়ে ভূমিকা রাখবে জাতিসংঘ।

গুমবিরোধী সনদে গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এ সনদের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সেটি দেখভালের জন্য কাজ করে জাতিসংঘের ১০ সদস্যের একটি কমিটি। সনদে ৪৫টি অনুচ্ছেদ আছে। এতে জাতিসংঘের কোনো সদস্যরাষ্ট্র পক্ষভুক্ত হলে সনদের ‘এক বা একাধিক অনুচ্ছেদ মেনে চলবে না’ বলেও তার সিদ্ধান্ত জাতিসংঘকে জানাতে পারে।