মেহেরপুরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের পিএস সাজহান সিরাজ দোলনের ভাড়া গোডাউন থেকে কোটি টাকার সরকারি ত্রাণের মালামাল জব্দ করেছে ট্রাস্ট ফোর্স। বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মেহেরপুর শহরের ক্যাশবপাড়ার একটি ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
এসময় ঘরে তল্লাশি করে ত্রাণের এবং সরকারি বরাদ্দের শাড়ী, লুঙ্গি, চাদর, কম্বল, টেলিভিশন, কোরআন শরীফ, টিফিন বক্স, ক্রিকেট, ফুটবল সামগ্রী, হুইল চেয়ার, সৌদি খেজুর, গ্যাষ সিলিন্ডার, করোনা কিডস, এ্যপ্রোন সহ প্রায় কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা হয়। ভাড়া করা এই বাড়িটি সাবেক মন্ত্রীর নিজ বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূর শহরের নতুন গড়ে উঠা একটি আবাসিক এলাকাতে।
মেহেরপুর সদর উপজেলা সরকারি কমিশনার (ভূমি) গাজী মইদুর রহমান এবং সেনা কর্মকর্তা মেজর জাহিন এর নেতৃত্ব ট্রাস্ট ফোর্স এই অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় পুরো গোডাউন তালাবদ্ধ ছিলো এবং সেখানে আলোর ব্যবস্থা ছিল না। পরে সব তালা ভেঙে এবং টর্চের আলোতে সব মালামাল জব্দ করা হয়। পরে ট্রাকে এবং ভ্যান বোঝায় করে মালামাল সরকারি হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকালে বাড়ির মালিক সাবেক বিজিবি সদস্য সুরমান আলী জানান, ‘দেড় বছর আগে সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রীর আত্মীয় ও পিএস দোলন ৬ হাজার টাকা চুক্তিতে বাড়িটি ভাড়া নিয়ে ত্রাণের সরকারি মালামাল মজুদ করে আসছিল। প্রায় সময় বাড়ি থেকে বিভিন্ন মালামাল ট্রাক বোঝায় করে নিয়ে গেছে আবার মজুদ করেছে। সেগুলো পাচার করে বিক্রি করেছে কিনা জানি না।’
ওই এলাকার বাসিন্দা মফিজুর রহমান বলেন, ‘ত্রাণের বা রিলিফের সরকারি মালামাল মজুদ করা অন্যায় কাজ জানি। কিন্তু মন্ত্রীর ভয়ে এলাকাবাসী কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।’
মেহেরপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গাজী মইদুর রহমান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বাড়ির ভিতর গোডাউনের সন্ধান পাওয়া গেলে তালাবদ্ধ ঘরের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করা হয়। সেখান থেকে বিপুল অর্থের সরকারি মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সমস্ত মালামাল জব্দ তালিকা করে সরকারি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ সময় গোডাউন ভাড়া নেয়া দোলনকে ফোন করে আসতে বলা হলেও তিনি এসে মালামালের বৈধতা দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
তবে, সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রীর ভাতিজা আসিফ সাদেক জানান, অধিকাংশ মালামালই ব্যক্তিগত। সরকারি নয়। যেগুলো বিতরণের জন্য মজুদ রাখা ছিল।’