দুই যুগের পথচলায় বাংলাদেশ ১৪৩টি টেস্ট খেলে ফেলেছে। সবশেষ রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ঐতিহাসিক জয় দিয়ে জেতার সংখ্যা ২০-এ উন্নীত করেছেন ক্রিকেটাররা। ২০০১ সালে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের সঙ্গে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজসহ বাংলাদেশ সিরিজ খেলেছে ৭৫টি। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিততে পেরেছে মাত্র ৮টি সিরিজ। ড্র করতে পেরেছে ১০টি সিরিজ। এ পর্যন্ত তিনবার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল দাপটের সঙ্গে সিরিজ জেতার। কিন্তু প্রতিবারই দ্বিতীয় টেস্ট হেরে সিরিজ জেতার সুযোগ হাতছাড়া করে। ২০১৭, ২০২২ ও ২০২৩ সালে তিনবার বাংলাদেশ জিতে নিয়েছিল সিরিজের প্রথম টেস্ট। এবার বাংলাদেশের সামনে সুযোগ দাপট দেখানোর ইতিহাস রচনা করার।
২০১৭ অস্ট্রেলিয়া সিরিজ : আগস্ট মাসেই বাংলাদেশ সফরে এসে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের কাছে প্রথম টেস্ট হারের তেতো স্বাদ পেতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৬০ রানের জবাবে অজিরা আউট হয় ২১৭ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ২২১ রানের সুবাদে অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৫ রানে। মিরপুরের ঘূর্ণি উইকেটে ২৪৪ রানে অলআউট হয়ে গেলে বাংলাদেশ ২০ রানের ঐতিহাসিক জয় পায়। ১০ উইকেট ও ৮৯ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে পরের টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতা কাল হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের। অজিরা ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে বাঁচিয়ে নেয় সিরিজ।
২০২২ নিউজিল্যান্ড সিরিজ : নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে প্রথম টেস্টে কিউইদের ৩২৮ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ৪৫৮ রান করেছিল বাংলাদেশ। ওই ইনিংসে মুমিনুল ৮৮, লিটন ৮৬, জয় ৭৮, শান্ত ৬৪ এবং মিরাজ ৪৭ রান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে এবাদতের ৬ ও তাসকিনের ৩ শিকারে নিউজিল্যান্ড ১৬৯ রানে অলআউট হলে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০ রানের। সহজেই তা ছুঁয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম জয়োল্লাসে মেতেছিলেন মুমিনুলরা। সেই উল্লাস মিইয়ে গিয়েছিল ক্রাইস্টচার্চের দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ১১৭ রানের ব্যবধানে হেরে।
২০২৩ নিউজিল্যান্ড সিরিজ : পরের বছর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড সফরে এলে সিলেটের প্রথম টেস্টে তাইজুল বীরত্বে ১৫০ রানের বড় জয় পেয়েছিল নাজমুল শান্তর নেতৃত্বে বাংলাদেশ। সিলেট থেকে মিরপুরে ফিরে কম রানের দ্বিতীয় টেস্টে লড়াই করার পরও ৪ উইকেটে হেরে যেতে হয়।
রাওয়ালপিন্ডিতে ১০ উইকেটের দাপুটে ব্যবধানে পাকিস্তানকে প্রথম টেস্টে হারানোর পর আশায় বুক বাঁধা যেতেই পারে। আগের তিনবারের না পাওয়ার যন্ত্রণা চতুর্থবারেই পুষিয়ে দেবেন মুশফিক-সাদমানরা। রাওয়ালপিন্ডির দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন প- হওয়া এবং আবহাওয়া পূর্বাভাসে খুশি হতে পারেন ভক্তরা। আজই দুই অধিনায়ক টস করতে নামতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা রাওয়ালপিন্ডির আবহাওয়া গতকালের তুলনায় ভিন্নরকম হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও নেই বলা হচ্ছে; বরং আকাশে থাকতে পারে রোদের ছটা। এমনকি সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে অতিরিক্ত গরম। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত যেতে পারে। ব্যাটে বলে লড়ে এবারই হয়তো আসতে যাচ্ছে বড় দলের বিপক্ষে দাপটের সঙ্গে সিরিজ জয়ের আনন্দ।