ইউএস ওপেন

‘১৫ বার তৃতীয় রাউন্ডে উঠে প্রথমবার জিতলাম’, জকোভিচকে হারিয়ে পপিরিন

এক অঘটনের ইউএস ওপেন। পর পর দু’দিন দুই তারকা বিদায় নিলেন বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম থেকে। কার্লোস আলকারাজ হেরেছিলেন দ্বিতীয় রাউন্ডে। শনিবার তৃতীয় রাউন্ডেই শেষ নোভাক জকোভিচের যাত্রা। অ্যালেক্সি পপিরিনের বিরুদ্ধে হেরে গেলেন ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক। ম্যাচের ফল পোপিনের পক্ষে ৬-৪, ৬-৪, ২-৬, ৬-৪।

শনিবার জকোভিচ নিজের হারের চিত্রনাট্য নিজেই লিখেছেন। এর আগে কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের ম্যাচে ১৪টি ডাবল ফল্ট করেননি তিনি। এই বছর তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যামে মুখোমুখি হয়েছিলেন জকোভিচ এবং পপিরিন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবং উইম্বলডনে হেরে গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার টেনিস খেলোয়াড়।

ইউএস ওপেনে জকোভিচকে হারিয়ে পপিরিন বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবং উইম্বলডনে লড়াই হয়েছিল। ওই ম্যাচগুলোতেও আমি সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি। এই ম্যাচটা আলাদা ছিল। এই ম্যাচে আমি সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছি। ভাল টেনিস খেলেছি।’

ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা জয়টি পপিরিন পেলেন শনিবার। তিনি বলেন, ‘আমি অন্তত ১৫ বার গ্র্যান্ড স্ল্যামের তৃতীয় রাউন্ডে উঠেছি। কিন্তু কখনও জিততে পারিনি। প্রথম বার সেটা পারলাম। তা-ও আবার সর্বকালের সেরা টেনিস খেলোয়াড়কে হারিয়ে। এটা অবিশ্বাস্য। পরিশ্রমের দাম পেলাম।’

জকোভিচের বিরুদ্ধে চার বার খেলে এই প্রথম জিতলেন পপিরিন। ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের লক্ষ্যে ইউএস ওপেনে নেমেছিলেন জকোভিচ। কেরিয়ারে ১০০তম ট্রফি জয়ের হাতছানি রয়েছে। কিন্তু সেই সব কিছুর জন্য অপেক্ষা করতে হবে সার্বিয়ার টেনিস তারকাকে। প্রথম দুটি সেটে হারের পর তৃতীয় সেটে ম্যাচে ফিরেছিলেন জকোভিচ। কিন্তু চতুর্থ সেটে হেরে বিদায় নিলেন প্যারিস অলিম্পিকের সোনাজয়ী।

উল্টো দিকে পপিরিনের কাছে এই আগস্ট মাসটা অন্যরকম। সবাইকে অবাক করে মন্ট্রিয়ালে এটিপি মাস্টার্স ১০০০-এ জিতেছিলেন তিনি। সেই জয় তাকে বিশ্ব ক্রমতালিকায় ২৩ নম্বরে তুলে এনেছিল। সেই জয়ের পথে ক্রমতালিকায় প্রথম ২০-র মধ্যে থাকা পাঁচ জনকে হারিয়েছিলেন পপিরিন। এ বার ইউএস ওপেনে হারালেন বিশ্বের দুই নম্বর জকোভিচকে।

এই বছর অলিম্পিকে সোনা জিতলেও কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা হল না জকোভিচের। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যাম ছাড়া বছর শেষ করলেন তিনি। গত বছর তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছিলেন জকোভিচ।