বন্যার পানি নেমে যেতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও নোংরা পানি জমে থাকছে। এসব নোংরা পানির সংস্পর্শে থাকা, দীর্ঘসময় হাত-পা ভেজা এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ত্বকে ছত্রাকজনিত সংক্রমণ দেখা দেয়। বন্যাক্রান্ত মানুষের যে ধরনের ত্বকের রোগ হতে পারে তাহলো
দাদ : শরীরের ভাঁজগুলোতে ছত্রাক জন্মায়। যা দাদ বা ‘দাউদ’ নামে পরিচিত। প্রচন্ড রকম চুলকানির পাশাপাশি কখনো কখনো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করে। গলা, মুখ, কুঁচকি, মলদ্বার এবং বুকে ও পিঠে এটি বেশি দেখা যায়। ছোট গোল ক্ষত আকারে সৃষ্টি হয়ে বাড়তে থাকে। কখনো এর ওপর নানা রকম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিতে এটিতে পুঁজ হতে পারে। ছত্রাক সংক্রমণ শরীর ছাড়াও মুখে, ঠোঁটে এমনকি মাথার ত্বকেও হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে এরা ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। মাথার ত্বকে হলে টিনিয়া ক্যাপিটিস, কুঁচকিতে হলে টিনিয়া ক্রুরিস, হাত-পায়ে এর নাম টিনিয়া ম্যানাম ও টিনিয়া পেডিস নামে পরিচিত।
সেবোরিক ডারমাটাইটিস : বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত হয়। মাথার ত্বক, ভ্রু, মুখম-ল, নাকের দুই পাশ, বুক ও পিঠের মাঝখানে ছোট ছোট দানার মতো দেখা দেয়, যা তৈলাক্ত ও হলুদাভ। চুলকানির সঙ্গে মাথার চুল পড়া বেড়ে যায়, ত্বকে জ্বালা ও ফুসকুড়ি দেখা দেয়। ইস্ট নামের এক ধরনের ছত্রাক, যা দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। তার কারণেই এটি হয়। খুশকি, চুলকানি, জ¦লুনি, লাল হওয়ার ফলে সারাক্ষণই আক্রান্ত ব্যক্তি অস্বস্তির মধ্যে থাকে।
খোসপাঁচড়া : সারকোপটিস স্ক্যাবি নামে এক ধরনের পরজীবী শরীরের বিভিন্ন স্থানে দানা দানা গর্ত সৃষ্টি করে, যার চুলকানির তীব্রতা রীতিমতো ভয়ংকর। চুলকানির তীব্রতা রাতে বাড়ে। ছোঁয়াচে রোগটি একজনের হলে খুব দ্রুতই আশপাশের লোকজনদের আক্রান্ত করে ফেলে। শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুতই চিকিৎসা নিতে হবে। না হলে নানা জটিলতার সৃষ্টি করবে। খোসপাঁচড়া পরিবারের কারও হলে সবারই চিকিৎসা নিতে হবে।
খুশকি : স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া, মাথার স্ক্যাল্প পরিষ্কার না থাকার করণে কারও কারও মাথায় খুশকির সংক্রমণ দেখা দেয়। এ ধরনের খুশকি তীব্র চুলকানির সৃষ্টি করে। মাখার স্ক্যাল্প থেকে আস্তে আস্তে কপালে ও মুখে ক্ষতের সৃষ্টি করে। সঙ্গে চুল পড়াও বেড়ে যায়।
ব্রণ : আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে মুখের ত্বক ছাড়াও বুক ও পিঠের মাঝখানে, গলায়, দুই বাহুতে ব্রণ দেখা দেয়। প্রপিনো ব্যাকটেরিয়াম এর কারন। অনুকূল পরিবেশে দ্রুতই বংশবৃদ্ধি করে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যা লোমকূপ আক্রান্ত করে ক্ষত তৈরি করে, যা দেখতে ব্রণের মতো।
প্রতিকার : ত্বকের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রথমে গুরুত্ব দিতে হবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর। নিজেকে পরিষ্কার রাখা এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখা। প্রতিদিন পরিষ্কার পানিতে গোসল করা, মুখমন্ডল পরিষ্কার করা যেমন জরুরি, তেমনি হাত-পা শুকনো রাখা। এ ছাড়াও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিসপত্র যেমন চিরুনি, তোয়ালে, সাবান, বিছানা-বালিশ অবশ্যই আলাদা রাখতে হবে। হাতের নখ ছোট রাখতে হবে। প্রতিবার বাথরুম থেকে এসে সাবান দিয়ে হাত-পা ধুয়ে ফেলতে হবে।
জীবাণুনাশক সাবান ও শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করতে হবে। বাড়িতে ফিরে অবশ্যই ডেটল-মিশ্রিত বা সাবানপানি দিয়ে পা ও স্যান্ডেল ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নেওয়া। সাধারত ত্বকের সংক্রমণ রোগগুলো অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে থাকে। তাই আক্রান্ত হলে অবহেলা না করে আশপাশে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া কিংবা বন্যার্তদের সাহায্য করতে যেসব মেডিকেল টিম আছে তাদের সেবা নিতে পারেন।