হামলাকারীদের গ্রেপ্তার-বিচার নিশ্চিত করাসহ চার দফা দাবিতে সারা দেশে সব ধরনের চিকিৎসাকেন্দ্রে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেছেন চিকিৎসকরা। আজ রবিবার বেলা দুইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের সামনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
এদিকে চিকিৎসকদের এমন কর্মসূচিতে নিরুপায় হয়ে পড়েছেন রোগীরা। বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে সেবা না পেয়ে তারা দিগ্বিদিক ছুটছেন। সরেজমিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের সামনে নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী অবস্থান করছে। হাসপাতালের কর্মীরা আগে থেকে যারা ভর্তি আছেন এমন রোগীর স্বজন ছাড়া কাউকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতর ঢুকতে দিচ্ছেন না। গুরুতর অসুস্থ রোগীরা সেবা না পেয়ে কেউ ফিরে যাচ্ছেন, কেউ জরুরি বিভাগের বাইরে দাঁড়িয়ে অবস্থা বোঝার চেষ্টা করছেন। চিকিৎসকদের হঠাৎ এমন কর্মসূচির কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
মোহাম্মদ আলী চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে গতকাল ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেলে। তার শারীরিক অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকরা জরুরি অপারেশনের পরামর্শ দেন। তার ভাই শাকিল জানান, খাদ্যনালীতে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা মোহাম্মদ আলীর। নানা দেনদরবার শেষে রবিবার বেলা আড়াইটায় তার অপারেশন হওয়ার কথা। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে জানানো হয় আজ কোনো অপারেশন হবে না।
৭ নম্বর অবজারভেশন কক্ষে আসেন শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাজধানীর মহাখালী টিবি গেট এলাকার বাসিন্দা মাসুম। তার বড় ভাই শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকাল থেকে ভাইয়ের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এক চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বারে নিয়ে গেলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল এ নিয়ে আসি। কিন্তু এখানে এসে শুনি কোনো রোগী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না, জরুরি বিভাগের সেবাও বন্ধ। হঠাৎ করে চিকিৎসকরা এমন কর্মসূচি দিলেন অথচ আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করলেন না।
রাজধানীর সূত্রাপুর থেকে এসেছেন বর্ষা বেগম। তার মেয়ে লামিশাকে ঢামেকে ভর্তি করাতে এসেছেন তিনি। বর্ষা দেশ রূপান্তরকে বলেন, লামিশার ভাইরাস জ্বর হয়েছে। ভাইরাস জ্বরের কারণে তার মুখ বাকা হয়ে গেছে। তার জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। এখন কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না।