ভারতীয় ঢলের পানি ও অবিরাম বৃষ্টিতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা হয়েছে কুমিল্লার ১৪ টি উপজেলায়। টানা ১২ দিন পানিবন্দি থাকা মানুষগুলোর অনেকেই ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন ইতোমধ্যে। তবে বন্যায় হাজার হাজার বাড়িঘর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার অনেকের বাড়িঘর বসবাসের উপযোগিতা হারিয়েছে।
এদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বন্যায় ১ লাখ ১০ হাজার পরিবার তাদের বাড়ি ঘর হারিয়েছে। তার মধ্যে বুড়িচং উপজেলায় ৪০ হাজার।
অপরদিকে খাদ্যসংকটসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে। যেখানে দুবেলা খাবার মিলানো কষ্টসাধ্য, সেখানে বাড়িঘর ঠিক করার প্রশ্ন আরও পরের বিষয়। ফলে আপাতত খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হবে অনেক বানবাসির।
এ বিষয়ে বুরবুড়িয়া এলাকার বাসিন্দা বিলকিস বেগম বলেন, ‘বাড়িঘরের পানি কমলেও বাড়িতে তো কিছুই নাই। আজকে সকালে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়িতে আসছি। বাড়িতে কিছুই নেই। আমার সাজানো সংসারে কত কিছুই না ছিল। এখন যে রান্না করে খাব, চাল ডাল থেকে শুরু করে রান্না করার চুলা পর্যন্ত নেই।’
আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাঁধ ভাঙার খবরে জানডা লইয়া বাহির হইছি। কিছুই সরাতে পারিনি। পানি কমায় বাড়িতে এসে দেখি, ঘরডা পইরা রইছে। আগামী দুই-তিন মাসেও ঘর ঠিক করে উঠতে পারুম না।’
এ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি ও মৎস্য খাত। কৃষিতে সাড়ে ৮০০ কোটি টাকার ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য জানিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর। প্রাথমিক সমীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাছ চাষের আড়াই হাজারের বেশি পুকুর ও ঘের। তবে বন্যা যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, ক্ষতির পরিমাণ তত বাড়বে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও মৎস্য চাষিরা।
এদিকে গোমতী নদীর বুরবুড়িয়ায় বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে এখনো পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। তবে প্রবাহের মাত্রা অনেকটা কমে আসছে।
জেলা প্রশাসনের হিসাব মতে, জেলায় ১০ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি আছে। ৭২৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৭৮ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। ২২৫টি মেডিকেল টিম এদের চিকিৎসা দিচ্ছে।
জেলা প্রশাসন থেকে ৩৯ লাখ নগদ টাকা ও ৮০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কুমিল্লা জেলায় ১৬ শ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তা ছাড়া কুমিল্লায় পর্যাপ্ত ত্রাণ এসেছে। বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা এসব ত্রাণ দুর্গতদের মাঝে পৌঁছে দিচ্ছেন।