পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহীদুল হক ও আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার রাতে শহীদুল হককে রাজধানীর উত্তরার ১৬ নম্বর সেক্টর থেকে আটক করা হয়। আর আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হওয়ায় সেনা হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
পুলিশের সাবেক এ দুই প্রধানকে হেফাজতে নেওয়ার তথ্য গতকাল রাত ১২টায় দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেন ডিএমপির ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক।
এভাবে একসঙ্গে পুলিশের সাবেক দুই প্রধান আটক হওয়ার ঘটনা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে জানিয়েছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা।
ডিএমপির ডিবিপ্রধান রেজাউল করিম মল্লিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আটক হওয়া পুলিশের সাবেক দুই আইজিপিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ বুধবার রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে। তাদের দুজনের বিরুদ্ধেই হত্যা মামলা আছে।
শহীদুল হক ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। আর আবদুল্লাহ আল মামুন আইজিপি ছিলেন ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে গত ৬ আগস্ট পর্যন্ত। দুই দফায় তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরদিন তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়।
বৈষ্যমবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে বহু মানুষ নিহতের ঘটনায় আবদুল্লাহ আল মামুনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হওয়া হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। সাবেক আইজিপি শহীদুল হকের বিরুদ্ধেও দায়িত্ব পালনকালে রয়েছে নানা অভিযোগ। ২০১৩ সালে রাজধানীতে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ হতাহতের ঘটনায় তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালেও তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন।