বন্যায় মোমবাতি-টর্চের আলোয় দ্বিগুণ প্রসব

ফেনীর সোনাগাজীতে সাম্প্রতিককালের ভয়াবহ বন্যার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছয় দিনে ৫১টি স্বাভাবিক সন্তান প্রসব হয়েছে; যা অন্য সময়ের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি। হাসপাতালটিতে গত ২০ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত রেকর্ডসংখ্যক এই প্রসবের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক বন্যায় গোটা উপজেলা পাঁচ থেকে সাত ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। অধিকাংশ ঘরবাড়িতে পানি ওঠে। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেয় লক্ষাধিক মানুষ। ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎব্যবস্থা, ছিল না মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক।

এমন পরিস্থিতিতে মোমবাতি আর টর্চের আলোয় সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ থেকে ২৫ আগস্ট ছয় দিনে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে ৫১টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয় বলে জানান হাসপাতালের নার্স লিজু আরা খাতুন।

বন্যার সময় প্রসবের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে লিজু আরা বলেন, ‘কখনো মোমবাতির আলোয়, কখনো রোগীর স্বজনদের আনা টর্চলাইটের আলোয়, আবার কখনো মোবাইল ফোনের টর্চের আলোয় ঝুঁকি নিয়ে ডেলিভারিগুলো সম্পন্ন করেছি। চাকরি জীবনে কখনো এ রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি।’

হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের ইনচার্জ রেজিয়া বেগম বলেন, ‘২০ আগস্ট রাত থেকে হাসপাতালে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ছয় দিন ধরে মোমবাতি কিংবা মোবাইল ফোনের টর্চের আলোয় ডেলিভারি ও সেলাই কাজ চালাতে হয়েছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় ডেলিভারি শেষে হাত ধোয়ার পানিটুকু পর্যন্ত পাইনি। তবুও আমরা সেবা চালু রেখেছিলাম।’

রেকর্ডসংখ্যক প্রসবের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বন্যার সময় সোনাগাজীর সঙ্গে ফেনী, ঢাকা ও চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাই আগে যেসব এলাকার লোকজন ঢাকা, ফেনী সদর হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতেন, তারাও বন্যার সময় সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উৎপল দাশ বলেন, ‘বন্যায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ডুবে গেলেও বন্ধ ছিল না চিকিৎসাসেবা। বন্যার সময় রেকর্ডসংখ্যক ডেলিভারি হয়েছে। সব ডেলিভারি সিজার ছাড়াই স্বাভাবিক অবস্থায় হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে তিনটি ডেলিভারি হলেও বন্যার সময় আটটির বেশি ডেলিভারি হয়েছে। চিকিৎসক-নার্সরা শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সেবা অব্যাহত রেখেছিলেন।’