পাকিস্তানের অর্থনীতির পতনে জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং দুর্বল প্রবৃদ্ধি একটি বড় কারণ হিসেবে মনে করা হয়। তবে দেশটির গণমাধ্যম দ্য ডনের মতে, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অপুষ্টিও বহু বছর ধরে পাকিস্তানের সমস্যার প্রাথমিক কারণ হিসেবে রয়ে গেছে।
ডনের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের আইনপ্রণেতারা এই সত্যটি এড়াতে পারেন না যে অপুষ্টি মাতৃস্বাস্থ্য, লিঙ্গ ক্ষমতায়ন, বাল্যবিবাহ এবং শিক্ষার একটি প্রধান আর্থ-সামাজিক নির্ধারক। এটি আসলে পুরো সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউনিসেফ এবং এফএএফইএন-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে উইমেন্স পার্লামেন্টারি ককাস সম্প্রতি জানিয়েছে, অপুষ্টির কারণে পাকিস্তানের জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশ ব্যয় হয় এবং দেশটিতে ডায়াবেটিস রোগীদের হার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রয়েছে।
তারা শিশু এবং পরিবার-সম্পর্কিত আইন এবং লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক সমস্যার সমাধানে অর্থবহ নীতি পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
ডন জানিয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি ১০ শিশুর মধ্যে ৪ জন খর্বকায়। এছাড়া ১৭.৭ শতাংশ তীব্র রুগ্ন, ২৮.৯ শতাংশ কম ওজনের এবং ৯.৫ শতাংশ অতিরিক্ত ওজনের শিকার।
আইপিসির একটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পাকিস্তানজুড়ে ২.১৪ মিলিয়ন শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে, যা সরকারের উদাসীনতা এবং পুষ্টিকে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ না ফল।
পাকিস্তানে স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলন, স্বাস্থ্যসেবা এবং খাদ্য নিরাপত্তার দিকে দৃষ্টি দেওয়া এখন সময়ের দাবি। এছাড়া, নারী ও শিশুদের মধ্যে স্যানিটেশন, পুষ্টিজ্ঞান সম্পর্কিত প্রচারাভিযান এবং নীতিগুলির দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত।
ধনী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি গ্রামীণ ও শহুরে অঞ্চলের মধ্যে সম্পদ ও দারিদ্র্যের ব্যবধান দূর এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নতি ছাড়া অপুষ্টি ও অপুষ্টি সূচক ন্যূনতম কমানো অসম্ভব।
এ মাসের শুরুতে পাকিস্তান সরকার ও আইএমএফ কর্মীরা কোনো চুক্তি ছাড়াই ৬৫০ কোটি ডলারের ঋণ ছাড়ের নবম পর্যালোচনা শেষ করে। পাকিস্তান সরকার আশা করেছিল, তারা ধীরে ধীরে শর্তগুলি বাস্তবায়নের বিষয়ে আইএমএফকে বোঝাতে সক্ষম হবে। কিন্তু আইএমএফ মিশনের ১০ দিনের পাকিস্তান সফরে ইসলামাবাদের সেই আশা ধূলিসাৎ হয়ে যায়।