মিয়ানমারের শান্তি দূরের বাতিঘর

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সঙ্গে বিদ্রোহী জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর লড়াই অব্যাহত রয়েছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইনসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুদ্ধে পরাজয় এবং বহু অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে জান্তা সরকার। সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লড়াই করে আসা সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো গত বছরের শেষদিকে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ গঠন করে। সম্প্রতি এই জোটকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে মিয়ানমার। তাতে চীনের মধ্যস্থতায় দেশটিতে দুপক্ষের মধ্যে আলোচিত শান্তিচুক্তির বিষয়টি নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

বেসামরিক এলাকায় বোমা হামলা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অবকাঠামো ধ্বংসসহ ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ পরিচালনার দায়ে, ইউনাইটেড লিগ অব আরাকানের সশস্ত্র শাখা মিয়ানমারের ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি, তায়াং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি এবং আরাকান আর্মিকে এই কালো তালিকাভুক্ত করেছে দেশটির সরকার। এই জোটকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’র তালিকাভুক্ত করে জান্তা সরকার তাদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে সামরিক সরকার। সেই সঙ্গে জাতিগত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিরীহ বেসামরিকদের হত্যা এবং জোরপূর্বক নিয়োগের অভিযোগও এনেছে সামরিক জান্তা। এর ফলে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং জাতিগত বিদ্রোহী জোটের মধ্যে আর শান্তি আলোচনা আয়োজন করতে পারবে না চীন।

তবে জাতিগত সেনাবাহিনীগুলোর দাবি, সরকারি বাহিনী নিজেদের ক্রমাগত পরাজয় মেনে নিতে পারছে না। তাই শান্তি আলোচনা ভেস্তে দিচ্ছে বারবার। পাশাপাশি বেসামরিকদের হত্যা ও নির্যাতনের পথ উন্মুক্ত রাখতে সরকার বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনয়া বসতে চায় বলে অভিযোগ তাদের।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে রাখাইনসহ বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিকদের হত্যা, অগ্নিকাণ্ড, বোমাবর্ষণসহ মানবতারবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে সরকারি বাহিনী। এর আগে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলে জাতিসংঘসহ অন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো।