ইউপি সদস্য নিহত, সাবেক সদস্যকে কুপিয়ে জখম

খুলনায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে ফারুক মীর (৪০) নামে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্য নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। মাদারীপুরে সাবেক ইউপি সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ দুটি ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের কোলা বাজারে সংঘর্ষে নিহত ফারুক মীর পাশর্^বর্তী তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর উত্তর কোলা ওয়ার্ডের সদস্য এবং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গাউস মীরের ছেলে।

দিঘলিয়া থানার ওসি মো. বাবুল আকতার ও তেরখাদা থানার ওসি জিএম ইমদাদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, পূর্বশত্রুতার জেরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার কোলা বাজারের একটি দোকানে ফারুক মীর ও মোহম্মদ কাজীর সঙ্গে নিয়াল উদ্দিন শিকদারের মারামারি বাঁধে। এ সময় দুপক্ষের সংঘর্ষে ফারুক মীর, জসিম মীর, গাউস মীর, ইলিয়াস মিনাসহ ৯ জন আহত হন। আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সোয়া ৮টার দিকে ইউপি সদস্য ফারুক মীর মারা যান। সংঘর্ষ চলাকালে বাজারের মোস্তাইন কাজীর ওষুধের দোকান ভাঙচুর করা হয়। ওই দোকান থেকে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুটও হয়।

মাদারীপুরের দুধখালী এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে দুধখালী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মহাসিন আকনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে মহাসিন আকনের মেয়ে-জামাই আবু সাইদ বেপারীর সঙ্গে একই এলাকার হুমায়ুন মুন্সি ও শাহিন মুন্সির কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেঁধে গেলে নারী-পুরুষসহ দুপক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এতে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন মহাসিন আকন।

মহাসিন আকনের মেয়ে বলেন, ‘বোনের জামাইয়ের সঙ্গে জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জেরে হুমায়ুন মুন্সীর লোকজন আমার বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়েছে।’

মাদারীপুর সদর থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।