পেরিকরোনাইটিস, অস্বাভাবিক দাঁত উঠা থেকে মাড়ির প্রদাহ

‘পেরিকরোনাইটিস’, ভেতরে থাকা, আংশিক উঠা বা এলোমেলোভাবে উঠা দাঁতের ওপরে থাকা মাড়ির প্রদাহ,  নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে এমনটি প্রায়ই ঘটে মাড়ির শেষ দাঁত বা আক্কেল দাঁতের সঙ্গে মাড়িতে।

কারণ : আমাদের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, যান্ত্রিক জীবনযাপনসহ নানা কারণে চোয়ালের হাড় ও ৩২টি দাঁতের মধ্যে সামঞ্জস্যতার অভাবে অনেকের আক্কেল বা উইসডম দাঁত ঠিকমতো উঠতে পারে না। একটু উঠে লক হয়ে যায় অথবা সামনের দাঁতের দিকে ওঠে বা চোয়াল কিংবা জিহ্বার দিকে বাঁকা হয়ে ওঠে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণভাবে ওঠার কারণে দাঁতটির সঙ্গে মাড়ির সুনির্দিষ্ট বন্ধন নষ্ট হয়, ফলে দাঁত ও মাড়ির ফাঁকে খাবার জমে আর সহজেই সেখানে ব্যাকটেরিয়া গোত্রীয় জীবাণু জড় হয়ে এমন প্রদাহের সৃষ্টি করে।

উপসর্গ : সাধারণত ১৭ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে এমনটা হয়ে থাকে, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আট নম্বর বা আক্কেল দাঁতটি এর মধ্যে উঠার চেষ্টা করে, তবে এর ব্যতিক্রমও হয়। আক্রান্ত স্থানে শুরুতে একটু অস্বস্তি, লাল হয়ে যায়, জিহ্বা দিয়ে চাপ বা চুষলে রক্ত আসে। বাজে গন্ধ ও পচা স্বাদ লাগতে পারে। ব্যথার তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে স্থানটি ফুলে যেতে পারে। খাবার গিলতে কষ্ট হয়। মুখের বাইরে নিচের চোয়ালের কাছে ফুলে যেতে পারে।  চিকিৎসা না পেলে কিছু দিন পরপর এমনটা হতে পারে।

জটিলতা : পেরিকরোনাইটিস সঠিক চিকিৎসা না পেলে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, সংক্রমণ চোয়ালের নরম কোষের মধ্যে ছড়িয়ে সেলুলাইটিস, হাড়ের মধ্যে অস্টিওমাওলাইটিসসহ প্রাণঘাতী লাডউইগএনজাইনার মতো জটিলতার তৈরি করতে পারে। অনেকে সহনীয় পর্যায়ের পেরিকরোনাইটিস নিয়ে দীর্ঘদিন অবহেলা করে, এখান থেকে আক্কেল দাঁতের পাশের গুরুত্বপূর্ণ দাঁতটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সংক্রমণ রক্তবাহিকায় মিশে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন হার্ট, মস্তিষ্ক, ফুসফুসকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

করণীয় : মুখের সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়ম মেনে দাঁত, মাড়ি ও জিহ্বা পরিষ্কারের পাশাপাশি সুষম স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস করতে হবে। আক্কেল দাঁতের আশপাশে কষ্ট হলে উষ্ণ পানিতে লবণ মিশিয়ে দিতে কয়েকবার কুলি করা যেতে পারে। বাজারজাত ক্লোরহেক্সিডিন, পোভিডন আয়োডিন বা হাইড্রোজেন পার অক্সাইড মাউথওয়াশ চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা যেতে পারে। এক্স-রের মাধ্যমে চিকিৎসক সহজেই দাঁতের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ জটিলতার বিষয়টি বুঝতে পারে। দাঁত যদি সোজা ও স্বাভাবিক থাকে তবে মাইনর একটা সার্জারির মাধ্যমে দাঁতের ওপরের মাড়ি কেটে ফেলতে হয় ও পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। একমাত্র এলোমেলো অবস্থানের আক্কেল দাঁত ফেলে দিলে তেমন কোনো সমস্যা হয় না, তবে অনেক ক্ষেত্রে সার্জারিটা জটিল হয়, কারণ অবস্থানগত কারণে দাঁতটিকে কেটে বের করতে হতে পারে, হাড় কাটতে হতে পারে, অনেক সময় স্নায়ুর কাছাকাছি থাকে, পাশের দাঁতে ক্ষতি হতে পারে, হাড় ভাঙতে পারে, সার্জারির পরবর্তী জটিলতা হতে পারে। এমন চিকিৎসায়  চিকিৎসকের বৈধতা নিশ্চিত না হলে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। তাই এ ধরনের রোগকে পুষে না রেখে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।