তরুণ প্রজম্মদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। আমরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছি। এটির স্বাদ পেতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এখন থেকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম চলবে। অনেকেই আমাদের প্রশ্ন করেন এই সরকার কতদিন থাকবে। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, যতদিন না এদেশের আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ, আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে না আসবে ততদিন পর্যন্ত থাকবে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। আমরা এই সরকারকে দেশের আর্থিক খাত, শিক্ষাখাত, বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ সংস্কারে সময় এবং সমর্থন দিয়ে যাব।’
আজ রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরের লালদিঘী ময়দানে গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র—নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুর্নীতিবাজদের সতর্ক করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ছাত্রদের আন্দোলনটি হয়েছিল ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অসাম্যের বিরুদ্ধে, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে, টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে। আমরা টেন্ডারবাজ এবং দুর্নীতিবাজদের সতর্ক করতে চাই। আপনারা ১৬ বছর একটি দলের ছত্রছায়ায় ছিলেন। এখন যদি আর একটা দলের ছত্রছায়ায় এসে আপনারা দুর্নীতি করার চেষ্টা করেন ছাত্র-জনতা আপনাদেরকে দেখে নেবে। আমরা এখনো ত্যাগ করতে প্রস্তুত। আমরা বুলেট বোমাকে ভয় পাই না। আপনারা সাবধান হয়ে যান। প্রশাসনে যারা রয়েছেন তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করুন।’
পুলিশের উদ্দেশ্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনাদের সাথে আমাদের বিরোধ নেই। আপনারা কাজে ফিরে আসুন। সব পুলিশ বেনজির হয় না। ডিবি হারুন হয় না। জনগণের স্বার্থে কাজে ফিরে আসুন। আমরা সহযোগি হিসেবে আপনাদের সাথে থাকব। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার আমাদের বিভাজন করেছে। দাড়ি, টুপি ওয়ালা, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দেশ বিরোধী বলে তকমা দিয়েছে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকারী বলে অপবাদ করেছে। অথচ দাড়ি-টুপিওয়ালারই সংকটকালে মন্দির পাহারা দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামবাসীর সাহসী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ঢাকায় যখন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল তখন বীর চট্টলাবাসী জেগে উঠেছিল। সংকটকালে চট্টলাবাসী যেভাবে সাহস জুগিয়েছিল। সেভাবে সময় দিতে হবে। আন্দোলন পরবর্তী সময়ে আমাদের যে রাস্তা—ঘাটগুলো ছিল সে রাস্তাঘাটে অমুক দল তমুক দল ছিল না। কিন্তু আপনি যদি এখন রাস্তায় বের হন দেখবেন দেয়ালে পোস্টারে ছেয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্টদের সময়ে যেভাবে পোস্টার ছিল ঠিক একইভাবে পোস্টার ছাপানো হয়েছে। শুধু ছবিগুলোর পরিবর্তন হয়েছে। আপনাদেরকে বলতে চাই ছাত্র আন্দোলনকে পুঁজি করে আপনারা সেই আন্দোলনকে দলীয়করণ করার চেষ্টা করবেন না। কারণ এই স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে ছাত্র—জনতার কাতারে শামিল হয়েছিল মুচি, কৃষক। এই কৃতিত্ব শুধু ছাত্র—জনতার। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের নয়।’