সাংবাদিকদের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্যে অবাক হয়েছি

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক বক্তৃতায় তিনি যতটা না উদ্বিগ্ন, তার চেয়ে বেশি অবাক হয়েছেন। গতকাল রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি যতটা উদ্বিগ্ন তার চেয়ে বেশি অবাক। উনি (ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী) এ ধরনের কথা কেন বললেন? আমি এটার কোনো কারণ খুঁজে পাই না। আমি কোনো অবস্থাতেই মনে করি না, ভারতের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ-বিগ্রহ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে।’

ভারতকে শান্তিপ্রিয় দেশ উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার উত্তর প্রদেশের লক্ষেèৗতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধ মোকাবিলার জন্য তৈরি থাকতে বলেছেন। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডারদের প্রথম যৌথ সম্মেলনে তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের পাশাপাশি বাংলাদেশের পরিস্থিতির উল্লেখ করে এ কথা বলেন। তিনি জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের এসব ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণেরও পরামর্শ দেন।

রাজনাথ সিংয়ের এ বক্তব্য প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘উনি এটা তার নিজের দেশের কনজাম্পশনের জন্য বলেছেন কি না, সেটা আমাদের জানতে হবে। এ ছাড়া ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে তো ভারতের যুদ্ধ প্রস্তুতির কোনো প্রয়োজন দেখি না বা হামাসের সঙ্গে যে সমস্যা হয়েছে, তাতে করে ভারতের যুদ্ধ প্রস্তুতির কী সম্পর্ক? রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ইসরায়েল-হামাস পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের কীভাবে তুলনা হয়, এটাও আমার বোধগম্য নয়। আমরা দেখব, কেন তিনি এরকম কথা বলেছেন।’

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের জন্য হুমকিস্বরূপ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি এখনো মনে করি উনি (রাজনাথ সিং) এটা অভ্যন্তরীণ কনজাম্পশনের জন্য বলেছেন। কাজেই এ বিষয়ে আমি কোনো স্পেকুলেট করতে চাই না। আমরা অবশ্যই দেখব এটা কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে।’

নিউ ইয়র্কে ইউনূস-মোদি বৈঠক প্রসঙ্গ : নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে এগোনো হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যেকোনো বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রে একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া রয়েছে, যা অনুসরণ করা হবে। যে প্রক্রিয়া আছে, সে অনুযায়ী আমরা এগাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘মোদি যে যাচ্ছেন, এটার শতভাগ নিশ্চয়তা আমরা এখনো পাইনি। একটা সম্ভাবনা আছে যে, উনি (মোদি) যাবেন। আসলে তারা যদি দেখা করতে না চায়, তাহলে কিছু করার নেই।’

এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস দাবি করেছিল, চলতি সপ্তাহের শুরুতে বাংলাদেশ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেছে।

জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিনিধিদল ১০-১২ জনের বেশি হবে না : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়া প্রধান উপদেষ্টার প্রতিনিধিদলের ব্যাপারে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রতিনিধিদলের সদস্য ১০-১২ জনের বেশি হবে না। কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত তালিকার বাইরেও আরেকটি তালিকা রয়েছে বলে জানান তিনি।

২২ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে পা রাখবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ২৯ সেপ্টেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আগামী মঙ্গলবার শুরু হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশন। আর উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ : রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমরা খুব স্পষ্ট করেই বলেছি আমাদের পক্ষে আর একজন রোহিঙ্গাকেও আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়। কিছু কিছু মানুষ ঢুকে যাচ্ছে, এটা আমরা জানি। সেটাকে যতটুকু সম্ভব আমরা ঠেকানোর চেষ্টা করছি। যাদের আমরা ধরতে পারছি, বিজিবি প্রতিদিনই তাদের ফেরত পাঠাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউএনএইচসিআর চায় আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিই, কিন্তু আমরা তাদের কাছে স্পষ্ট করেছি, আমরা ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি। আমাদের যেটুকু ভূমিকা নেওয়া, প্রত্যাশিত তার চেয়ে বেশি আমরা পালন করেছি। আমাদের পক্ষে আর সম্ভব নয়। যারা আমাদের উপদেশ দিতে আসে বা চায়, তারা বরং তাদের (রোহিঙ্গাদের) নিয়ে যাক।’