রায়েরবাজার-কামরাঙ্গীরচর ৮ লেনের সড়কে দরপত্র জালিয়াতি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) কয়েকজন প্রকৌশলীকে নিয়ে চক্র গড়ে তুলেছিলেন সংস্থাটির সদ্য সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। এ চক্রের মাধ্যমে কয়েকশ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। এ চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন সংস্থাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) কাজী বোরহান উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আনিছুর রহমান ও অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মিথুন চন্দ্র শীলসহ আরও বেশ কয়েকজন।

‘রায়ের বাজার স্লুইসগেট থেকে লোহার ব্রিজ পর্যন্ত ইনার সার্কুলার রিং রোডের উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগ আছে কাজী বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনের জন্য নেওয়া ৯৭৪ কোটি টাকার প্রকল্পটি গত ২৫ মে উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ প্রকল্পের পরিচালক ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী বোরহানের বিরুদ্ধে দরপত্র জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

ডিএসসিসির নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, জালিয়াতি করে, মোট ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে প্রধান প্রধান আইটেমের দর বৃদ্ধি, স্পেসিফিকেশন নিম্নমানে পরিবর্তন করে ই-জিপিতে দুবার বিওকিউ পরিবর্তন এবং দরপত্র দাখিলের সময় বাড়িয়ে অন্তত ৩০ কোটি টাকা ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ডিএসসিসির কালো তালিকাভুক্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনডিইকে এ প্রকল্পের কাজ দেওয়া হয়। ই-জিপির দরপত্র-৯৫১০৭৪ পরীক্ষা করলেই জালিয়াতি প্রমাণিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তাছাড়া মেয়র সাঈদ খোকনের আমলে বোরহান অন্তত ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। সেখানেও অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ ওঠে। কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ উপায় উপার্জিত অর্থের জোরে বারবার পার পেয়ে যান এ প্রকৌশলী।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান ও ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছিম আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি প্রক্রিয়াধীন আছে। আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সময় বাড়িয়ে নিয়েছি।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, কাজী বোরহান উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন প্রকৌশলীর ব্যাপারে ডিএসসিসি থেকে একটি পর্যবেক্ষণ তারা পেয়েছেন। সেই পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কোনো নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই ২০০১ সালের ৭ মে তৎকালীন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন বোরহান উদ্দিন। অপেক্ষমাণ তালিকাসংক্রান্ত সভার কার্যবিবরণী জালিয়াতি করে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। তবে প্রথম শ্রেণির পদে অপেক্ষমাণ তালিকা প্রস্তুত বা অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নিয়োগের সুযোগ নেই। পদোন্নতির ক্ষেত্রেও বোরহান উদ্দিন নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক মেয়র শেখ তাপস দায়িত্ব নেওয়ার চার মাস আগে বাছাই কমিটির সভার কার্যবিবরণীতে বোরহান উদ্দিনের নাম যুক্ত করা হয়। যদিও সরকারি নিয়মানুসারে সভা অনুষ্ঠানের চার মাস পর দাপ্তরিক আদেশ জারি করার কোনো সুযোগ বা বৈধতা থাকে না।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী বোরহান উদ্দিন দেশ রূপান্তরের কাছে দাবি করেন, তার প্রকল্পে কোনো নিম্নমানের কাজ হয়নি। যে বিষয়গুলো তদন্তাধীন আছে, তাতে কমিটি রিপোর্ট দিলে সব স্পষ্ট হবে।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য নিতে অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মিথুন চন্দ্র শীলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগর চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন