প্রথম দুই টেস্ট জিতে সিরিজ আগেই নিজেদের করে নিয়েছিল ইংল্যান্ড। হারা-জেতা মুখ্য না হলেও শ্রীলঙ্কার কাছে ছিল প্রত্যাবর্তনের চ্যালেঞ্জ। লন্ডনের দ্যা ওভালে সেই চ্যালেঞ্জ জয় করে নিয়েছেন লঙ্কানরা। এ নিয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে চতুর্থ টেস্ট জয়ের স্বাদ পেলো এশিয়ার দেশটি। সেটিও শেষ জয়ের ১০ বছর পরে। সিরিজের শেষ টেস্টে ৮ উইকেটের ব্যবধানে জিতেছে শ্রীলঙ্কা
লঙ্কানরা ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট জিতেছিলো ১৯৯৮ সালের সফরে। ওভালে একমাত্র টেস্টে এসেছিলো সেই জয়। এর ৮ বছর পর ২০০৬ সালে নটিংহাম টেস্ট জেতার মধ্য দিয়ে ১-১ ব্যবধানে সিরিজ ড্র করেছিলো। তৃতীয় জয় আসতে অপেক্ষা করতে হয়েছিলো আরও ৮ বছর। ২০১৪ সালে লিডস টেস্ট জেতার মাধ্যমে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিলো শ্রীলঙ্কা। আজ সেই ঘটনার ১০ বছর পর ৯টি টেস্ট হার ও ১ ড্রয়ের পর এলো চতুর্থ জয়।
ইংল্যান্ডে লঙ্কানদের টেস্ট জয়
তারিখ ব্যবধান ভেন্যু
২৭ আগস্ট ১৯৯৮ ১০ উইকেটে দ্যা ওভাল
২ জুন ২০০৬ ১৩৪ রানে নটিংহাম
২০ জুন ২০১৪ ১০০ রানে লিডস
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ৮ উইকেটে দ্যা ওভাল
চতুর্থ দিন শেষেই জয়ের আভাস পাচ্ছিলো লঙ্কানরা। আর সেটি এনে দিয়েছিলেন দলের চার পেসার। ইংলিশদের প্রথম ইনিংসের ৩২৫ রানের জবাবে লঙ্কানরা গুটিয়ে গিয়েছিলো ২৬৩ রানে। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে লঙ্কান পেসারদের তোপে মাত্র ১৫৬ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। লাহিরু কুমারা ৪টি, বিশ্ব ফার্নান্দো ৩টি, আসিথা ফার্নান্দো ২টি এবং মিলান রত্নায়েকে ১টি উইকেট শিকার করেন।
২১৯ রানের লক্ষ্যে নেমে ১ উইকেট হারিয়ে ৯৪ রান তুলে চতুর্থ দিনশেষ করেছিলেন লঙ্কানরা। শেষ দিনে প্রয়োজনীয় ১২৫ রান তোলার পথে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রান তাড়া অভিযাত্রার নেতৃত্ব দেন পাথুম নিশাঙ্কা। ১২৪ বলে ১২৭ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ওপেনার হিসেবে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ও সব মিলিয়ে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দিনে দেশকে জয়ও এনে দেন। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রান করা পাথুমই হয়েছেন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়। ২০২১ সালের মার্চে নিজের অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে উইন্ডিজের বিপক্ষে ৬ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথমবার তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন পাথুম।
লঙ্কানদের মধ্যে সিরিজসেরা হয়েছেন কামিন্দু মেন্ডিস। আর ইংলিশ সিরিজ ও গ্রীষ্মের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন জো রুট। পুরো সিরিজে ১টি উইকেট নেওয়ার সঙ্গে ৩৭৫ রান করেন রুট। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অধীনে টেস্টে বাজবল ধারণা শুরুর পর থেকে এটি ইংল্যান্ডের নবম হার। ২০২৩ সাল থেকে ঘরের মাঠে শেষ ৮ টেস্ট ধরে অপরাজিত ছিল ইংলিশরা।