মস্তিষ্কের সুস্থতায় যা নিশ্চিত হওয়া জরুরি

আমাদের কিছু অভ্যাস নিজের অজান্তেই আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। এসব অভ্যাসের কারণে মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর প্রভাব আমাদের সারা জীবনে দৃশ্যমান হয়। এখানে এমন কিছু অভ্যাস সম্পর্কে জানুন যা বদলে ফেলা অত্যন্ত জরুরি

অত্যধিক রাগ

বলা হয় রাগ বিবেককে ধ্বংস করে। কিন্তু কিছু মানুষ ছোটখাটো বিষয়ে রেগে যায়। রাগের কারণে রক্তের ধমনিতে চাপ পড়ে, যার খারাপ প্রভাব পড়ে মানুষের মনে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তির স্মৃতিশক্তি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই শপথ নিন অত্যধিক রেগে যাবেন না।

অনিদ্রা

ভালো ঘুম আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ঘুম আমাদের মস্তিষ্কের ক্লান্তি কমায় এবং এর কার্যক্ষমতা বাড়ায়। কিন্তু কিছু মানুষের ঠিকমতো ঘুম হয় না বা দেরিতে ঘুমানোর কারণে তাদের ঘুম সম্পূর্ণ হয় না। এই ধরনের মানুষের মস্তিষ্কের কোষগুলো আরাম করতে পারে না। সেই কারণে তাদের মাথায় ক্লান্তি, অলসতা, ভুলে যাওয়া, একাগ্রতার অভাব ইত্যাদি নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই দিনে অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমানো দরকার। ঘুমানোর আগে ভালো কোনো বই পড়ুন এবং মোবাইলকে দূরে রাখুন।

সকালের নাশতা না করা

সকালের খাবার শরীরের জন্য জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। এটি গ্রহণ না করলে মস্তিষ্ক দিনের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না। এর প্রভাব আপনার মস্তিষ্কে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে আপনার মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। তাই এসব বিষয়ে যতœবান হতে হবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে ভালো থাকা যায়।

হাঁটা বা ব্যায়াম

হাঁটার থেকে উপকারী ব্যায়াম আর নেই। দিনে কতটুকু হাঁটা উচিত অনেকেই জানেন না। হাঁটা সহজ এরোবিক এক্সারসাইজ। তাই শুধুমাত্র হেঁটেই সুস্থ-সবল জীবনযাপন করা যায়। নিয়মিত হাঁটলে নিয়ন্ত্রণে থাকবে একাধিক ক্রনিক অসুখও। শরীর থেকে টক্সিন বের হয়ে যাবে। যার ফলে ওজন কমানোর পাশাপাশি ঘুমও ভালো হবে।

আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মতে, প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ১০ হাজার স্টেপ হাঁটতেই হবে। তাতেই আপনার সুস্থ থাকার পথ প্রশস্ত হবে। নইলে হেঁটে যে কোনো উপকারই মিলবে না, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ঘাম ঝরিয়ে সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০ মিনিট হাটুন। প্রথমে ১০ মিনিট আস্তে আস্তে হাঁটুন। পরবর্তী ১০ মিনিট দ্রুত হাটুন এবং শেষের ১০ মিনিট আবার আস্তে আস্তে হাঁটুন। এতেই ভালো থাকবেন।

তবে যাঁদের আর্থ্রাইটিসের ব্যথা রয়েছে, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হাঁটার মতো ব্যায়াম ভুলেও করবেন না।