বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৬, আহত ১৭

নাটোরের বড়াইগ্রামে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। গত রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত উপজেলার চান্দাই ইউনিয়নের দাসগ্রাম বাজার ও রাজেন্দ্রপুর কুদুর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন রাজেন্দ্রপুর গ্রামের বিএনপিকর্মী শহীদুল ইসলাম মালিথা (৩৮), সাগর আলী (২০), মামুন হোসেন (২১), জাহিদ আলী (১৮) ও মশিউর রহমান (২৮) এবং দাসগ্রামের রবিউল করিম (৩৯)। এ ছাড়া সংঘর্ষে দাসগ্রামের মেহেদী হাসান (২৮), শাহ আজিজ (৪০), লিটন (৩৮), আওয়ামী লীগ কর্মী শাহিন মালিথাসহ (৬০) অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শহীদুলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, অন্যদের বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আউয়াল টিপু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর জেরে গত রবিবার সন্ধ্যায় টিপুর অনুসারীরা দাসগ্রাম বাজারে হাবিবুর রহমানের অফিস ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে হাবিবুর রহমান শতাধিক লোক নিয়ে বাজারে এসে গুলি চালানোসহ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে টিপুর লোকজন পালিয়ে যায়। পরে হাবিবুরের অনুসারীরা দাসগ্রাম বাজার ও রাজেন্দ্রপুর কুদুর মোড়ে ভাঙচুর চালায়।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গোলাগুলি ও লুটপাটের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আহতদের মধ্যে দুজনের শরীর থেকে অপারেশন করে গুলি বের করা হয়েছে। অন্য চারজনের শরীরে রাবার বুলেটের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সরল মুরমু বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপি ও ছাত্রদলের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনায় আরও সাতজন আহত হয়েছেন। সরকারি খাল দখল ও চাঁদাবাজি কেন্দ্র করে গত রবিবার রাতে সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলী পুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন কাউসার, মিরাজুল, রেজাউল, নিলয়, সাব্বির, সিজান ও জিসান। তাদের মধ্যে নিলয়ের অবস্থা গুরুতর। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামান মীর্জা জানান, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য শামীম ডালির নেতৃত্বে কিছু লোক কদমতলী এলাকায় ডিএনডি খাল দখল করে মাছ চাষ করাসহ ফুটপাতের দোকান ও ময়লার গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করছিল। নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর বিষয়টি জানতে পেরে তাদের দখলবাজি ও চাঁদাবাজি করতে নিষেধ করেন। এতে শামীম ডালি ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মারধর করেন। ফলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।’

নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর বলেন, ‘চাঁদা তুলতে নিষেধ কারায় শামীম ডালির সহযোগীরা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় কাউসার, মিরাজুল ও রেজাউল আহত হয়।’

চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা শামীম ডালি বলেন, ‘আমরা কয়েকজন কদমতলী এলাকায় দলীয় অফিসে ছিলাম। রাত ৯টার দিকে ছাত্রদলের কিছু ছেলে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের অনেকে আহত হয়েছেন।’

সংঘর্ষের বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আল মামুন বলেন, ‘মৌখিকভাবে দুপক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। তবে কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’