নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভূইগড় দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার দুপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অধ্যক্ষের সমর্থকদের হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যক্ষ পদে খালিদ উল্লাহ গত এক যুগ ধরে রয়েছেন। এই সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও অধ্যক্ষ মিলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বেতনের বাইরে মাদ্রাসা ফান্ড থেকে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা হিসেবে প্রায় ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগে স্বেচ্ছাচারিতা, জমি বিক্রি এবং জমি ক্রয়ের ৭ কোটি টাকার হিসাব না দেওয়া, অফিস সহকারী নিয়োগে ৬ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ, এমপিওভুক্তির ৩০ লাখ টাকার হিসাব না দেওয়া, চারিত্রিক অধঃপতনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বহিরাগতরা আমাদের ওপর আক্রমণ করে। শিক্ষার্থীরা আরও জানান, অধ্যক্ষের লোক হিসেবে পরিচিত জেলা কৃষক লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক কাজী সালাউদ্দিন আইউবী, ছেলে সিহাব, ইমরান, সাব্বির, সাজ্জাদ হোসেন সাজ, শিশির, সালেহ, শিক্ষক রবিনসহ আরও কয়েকজন এ হামলা চালায়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা মামলা করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ খালিদ উল্লাহ বলেন, ‘যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে সেগুলো সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা। প্রতিটি অভিযোগের বিষয়ে জবাব রয়েছে। বহিরাগতদের মাদ্রাসায় আসার খবর শুনে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। আমরা নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও পারিনি। তাদের ধাওয়ায় বহিরাগতরা পালিয়ে যায়।’
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি নূরে আজম মিয়া জানান, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেব।