নির্বাচনের আগে সংস্কারের দাবি

১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশনা দিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু চেম্বারে সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ব্যবসায়ী নেতাদের অনেকেই বলছেন, কাক্সিক্ষত সংস্কারের জন্য এই সময় যথেষ্ট নয়। কেউ বলছেন, বিনা সংস্কারে নির্বাচন করা হলে চেম্বার নেতৃত্বের গুণগত পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকাসহ বিভিন্ন সংস্কারের দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

চেম্বারে ইতিপূর্বে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এমন একাধিক ব্যবসায়ী নেতা দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, শতবর্র্ষী চেম্বারের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে সবার আগে সংস্কার আনতে হবে বিদ্যমান ভোটার তালিকায়। অভিযোগ রয়েছে, বিগত ১৬ বছর ধরে চেম্বার যারা নিয়ন্ত্রণ করেছেন তারা নির্বাচনে একক আধিপত্য বিস্তার করতে অসংখ্য ভুয়া ভোটার সৃজন করেছেন। চেম্বারের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে যেসব শর্ত রয়েছে, তা উপেক্ষা করে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ভোটার বানানো হয়েছে। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, ভুয়া ভোটার বাদ দেওয়া এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সদস্যভুক্ত করা না হলে নির্বাচন কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। তাই এই খাতে প্রথমে সংস্কার করতে হবে।

তাদের মতে, এক ব্যক্তির একক আধিপত্যের কারণে বারবার করে চেম্বার বোর্ডে যেমন দুর্বল নেতৃত্ব এসেছে তেমনি চেম্বারের বিভিন্ন দপ্তর পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির কারণে অদক্ষ-অযোগ্য লোকদের পদায়ন হয়েছে। তাই চেম্বারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে অযোগ্য ও ছাপোষাদের সরিয়ে যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে। চট্টগ্রাম চেম্বারকে পুঁজি করে নানা আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেটের পকেট ভারী করার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা (সিআইটিএফ) ও ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার থেকে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। এই দুটি খাতের আয়-ব্যয়ের হিসাবের পুনঃনিরীক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত আর্থিক চিত্র বের করে আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, শতবর্ষী চট্টগ্রাম চেম্বারের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হলে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা ও সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে হবে। বিদ্যমান ভোটার তালিকায় অনেক ভুয়া ভোটার রয়েছেন। চেম্বারের সদস্য হওয়ার প্রধান শর্ত হলো সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স থাকা, আয়কর বিভাগের টিআইএন সার্টিফিকেট থাকা ও চলতি বছরের আয়করের রিটার্ন দাখিলের ডকুমেন্ট থাকা। বর্তমানে যারা ভোটার রয়েছেন, তাদের সদস্য করার ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া প্রতিপালিত হয়েছে কি না যাচাই-বাছাই করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও সিআইটিএফ ছিল আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতির দুটি বড় খাত। এক্সটার্নাল অডিটর দিয়ে এগুলো পুনঃনিরীক্ষা করাতে হবে। নির্বাচনের আগে এসব সংস্কারের দিকে প্রশাসককে গুরুত্ব দিতে হবে।

চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নুরুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিগত বিশ বছরে চট্টগ্রাম চেম্বার যেভাবে অনিয়ম দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছে তা পরিষ্কার করতে সময় লাগবে। পুরনো ভোটার তালিকা সংস্কার করে একটি স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করতে হবে। তার আগে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সদস্য হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। বর্তমান সচিবসহ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় ভুয়া ভোটার সর্বস্ব তালিকায় নির্বাচন দিয়ে ব্যবসায়ীদের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটবে না। তিনি বলেন, এসব সংস্কারের জন্য চার মাস সময় কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।

তবে এই মুহূর্তে নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে চেম্বারের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন বলেন, খুব বেশি সংস্কারে হাত দিতে গেলে যথাসময়ে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন পিছিয়ে গেলে সংগঠনের জন্যও ভালো হবে না। নির্বাচন শেষ করে নির্বাচিত কমিটিই যাবতীয় সংস্কারের উদ্যোগ নিতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৯ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ আনোয়ার পাশাকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।