৩০ পেরিয়ে মা হতে চান? জেনে নিন চ্যালেঞ্জ

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জীবনযাত্রা ও চিন্তায় পরিবর্তন এসেছে। বেশিরভাগ মেয়ে চাকরি, পেশা সামলে এখন সংসার গোছাতে দেরি করছেন। তারা এখন উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ারের দিকে মনোনিবেশ করছে। তাই বিয়ে করতে যেমন দেরি হচ্ছে তেমনি সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করতেও অনেকটা সময় লাগছে। একজন নারীর মা হওয়ার সক্ষমতা তার বয়স এবং শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে একজন নারীর মা হওয়ার সম্ভাবনা। এমনও দেখা যাচ্ছে, বিয়ের বয়স অনেক হয়েছে কিন্তু সন্তান কোলে আসেনি। ফলে বাড়ছে হতাশা, একাকিত্ব। যদি সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা দেরি হয়ে গেলে কি কি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় চলুন জেনে নেওয়া যাক—

বন্ধ্যাত্বের সম্ভাবনা

খাদ্যাভাসের কারণে অনেক নারীর দেহে ডিম্বাণু কম থাকে। বয়ঃসন্ধির শুরুতে একজন নারীর দেহে তিন থেকে পাঁচ লাখ ডিম্বাণু থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যা আরও কমতে থাকতে। যার ফলে প্রাকৃতিক উপায়ে মা হওয়ার সম্ভাবনা কমতে থাকে। একসময় তা বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যার সৃষ্টি করে। ৩০ বছরের আগে যেখানে একজন নারীর মা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৮৫ শতাংশ তা ৩৫ এর পর ৬৬ শতাংশে নেমে আসে।

গর্ভপাতের শঙ্কা

৩০ বছর বয়সের পর নারীরা মাতৃত্বের দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ঢুকে যান। এ সময়ে এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডিনোমায়োসিস মতো রোগের শঙ্কা থাকে। এতে ভ্রূণ ধারণ ক্ষমতা কমে যায়; যার ফলে গর্ভপাতের ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। এমনকি প্রসবের সময়েও সন্তানের মৃত্যু হতে পারে। এছাড়া সন্তানের জিনগত সমস্যা, শারীরিক ঝুঁকিসহ (যেমন গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং প্রি-এক্লাম্পসিয়া) নানা রোগে ভুগতে হয়। তাই এই ভয়াবহ সমস্যা এড়াতে চাইলে কম বয়সেই মা হওয়ার পরিকল্পনা করুন। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

কিছু জটিল সমস্যা

এমনিতেই ১০০ জন শিশু জন্ম নিলে তার মধ্যে ৩ থেকে ৪ জনের জন্মগত ত্রুটি থাকে। এটা যেকোনো বয়সে গর্ভধারণ করলেই হতে পারে। এটাই স্বাভাবিক পরিসংখ্যান। তবে নারীদের বয়স যত বাড়ে, ততই তাদের ডিম্বাণুর জেনেটিক পরিবর্তন ঘটে। সেই কারণে একটু বেশি বয়সের পর সন্তানধারণ করলে বাচ্চার ডাউন সিনড্রোম বা এই ধরনের বিভিন্ন জেনেটিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

তবে আপনি যে বয়সেই মা হতে চান না কেন, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকুন। ‘প্রি-কনসেপশনাল কাউন্সেলিং’ খুব জরুরি। সন্তান দেরিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করলেও আগে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরামর্শ নেওয়া খুব জরুরি। সেক্ষেত্রে আগে আলট্রাসাউন্ড ও এএমআইচ পরীক্ষা করিয়ে দেখে নেওয়া হয় স্বাভাবিক ভাবে মা হওয়া সম্ভব কি না।